ঢাকার বংশাল এলাকায় নিজ ঘরে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোক আর চাঞ্চল্য। মঙ্গলবার রাতে বি কে গাঙ্গুলী লেনের একটি বাসা থেকে মো. আশফাক হোসেন লামের (১৫) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার রাতে আশফাক তার নিজ কক্ষে ছিল। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের লোকজন দরজা ডাকাডাকি করেও না খুললে পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা দেখতে পান, আশফাক সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। তৎক্ষণাৎ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজল রায় জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে কী কারণে এমন ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং আশপাশের লোকজনের বক্তব্য নিয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। প্রয়োজনে ডিজিটাল প্রমাণ বা ফোন রেকর্ডও বিশ্লেষণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আশফাক ছিল শান্ত-ভদ্র প্রকৃতির ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যেত এবং বন্ধুদের সঙ্গে মিশুক স্বভাবের ছিল। হঠাৎ এমন মৃত্যুতে কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সহপাঠীরা শোক বার্তা জানাচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক বা মানসিক কোনো চাপ থেকেই আশফাক এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে এলাকাবাসী ও সহপাঠীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক ও হতবিহ্বলতা। অনেকেই পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে ভিড় করছেন তাদের বাসায়।
স্টাফ রিপোর্টার 




















