০৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বয়ামে সংরক্ষিত বিরল বাঘ-কালিম প্রদর্শনী

 

চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় গড়ে উঠেছে এক ভিন্নধর্মী বন্য প্রাণী জাদুঘর। ছোট একটি কক্ষজুড়ে সারি সারি তাক। প্রতিটি তাকে কাচের বয়ামে ডুবে আছে মৃত কিন্তু অমূল্য বহু প্রাণী। ৭৪ প্রজাতির ১২০টি পশুপাখি নিয়ে তৈরি এই জাদুঘর গবেষণা, শিক্ষা ও প্রজন্মকে সচেতন করার এক অনন্য স্থান।

 

জাদুঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে মাত্র তিন দিন বয়সে মারা যাওয়া একটি বাঘের শাবক। ১৯৯৯ সালের ১৯ মে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে শাবকটি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়। আরেক তাকেই ভাসমান চিত্রা হরিণের বাচ্চা, যা ১৯৯৭ সালে চিড়িয়াখানা থেকে আনা হয়েছিল। বয়ামের ভেতর যেন তারা সময়ের বুকে থেমে গেছে।

 

এ ছাড়া গেছো ব্যাঙ, খইয়া গোখরো, দুমুখো সাপ, শঙ্খিনী, দুধরাজ, জলপাইরঙা কাছিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ তাকজুড়ে সাজানো। ঘড়িয়ালের ডিম পর্যন্ত রয়েছে সংগ্রহে। যেন এক কক্ষে পুরো জঙ্গলের জীববৈচিত্র্য।

 

পাখিদের জন্য রয়েছে আলাদা সংগ্রহশালা। সেখানে লালবুক টিয়া, ময়না, লক্ষ্মীপ্যাঁচা, পাহাড়ি ময়না, সবুজ টিয়া, সুন্দরী হাঁস, ভাতশালিক, ঝুঁটি শালিকের মতো পাখি রাখা হয়েছে ট্যাক্সিডার্মি পদ্ধতিতে। তবে সবচেয়ে দৃষ্টি কাড়ে ‘কালিম’ বা বেগুনি জলচর পাখি, যা ২০১৭ সালে ঢাকার একটি জলাধারের এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়।

 

‘প্রাণীগুলোকে জীবন্তের মতো সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব’

 

বিএফআরআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, ১৯৭৮ সালে মৃত বিরল প্রাণী সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই এ সংগ্রহ বাড়তে থাকে। দেশে বিলুপ্তপ্রায় অনেক প্রজাতিই এ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিটি নমুনা কাচের বয়ামে ফরমালডিহাইড দ্রবণে রাখা হয় এবং প্রতিবছর দ্রবণ পরিবর্তন করা হয় যাতে নমুনার আকৃতি অক্ষুণ্ণ থাকে।

 

তিনি বলেন, “এ জাদুঘর শুধু প্রদর্শনী নয়; এটি গবেষণা, শিক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ভবিষ্যতে জাদুঘরকে আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

 

গুইসাপসহ উপকারী প্রাণীর সংগ্রহও গুরুত্বপূর্ণ

 

১৯৯২ সালে মিরসরাই থেকে সংগ্রহ করা গুইসাপের বাচ্চাটি জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ। গুইসাপ পরিবেশে অত্যন্ত উপকারী হলেও তাদের আবাস ধ্বংস হওয়ায় সংখ্যা কমছে। জাদুঘরটি তাই শুধু সংগ্রহশালা নয়, বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রাণীদের স্মৃতি ধরে রাখার স্থানও।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া দলিল সৃজনের অভিযোগ

মদনে পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০

16 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বয়ামে সংরক্ষিত বিরল বাঘ-কালিম প্রদর্শনী

পোষ্টের সময় : ০৯:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

 

চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় গড়ে উঠেছে এক ভিন্নধর্মী বন্য প্রাণী জাদুঘর। ছোট একটি কক্ষজুড়ে সারি সারি তাক। প্রতিটি তাকে কাচের বয়ামে ডুবে আছে মৃত কিন্তু অমূল্য বহু প্রাণী। ৭৪ প্রজাতির ১২০টি পশুপাখি নিয়ে তৈরি এই জাদুঘর গবেষণা, শিক্ষা ও প্রজন্মকে সচেতন করার এক অনন্য স্থান।

 

জাদুঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে মাত্র তিন দিন বয়সে মারা যাওয়া একটি বাঘের শাবক। ১৯৯৯ সালের ১৯ মে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে শাবকটি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়। আরেক তাকেই ভাসমান চিত্রা হরিণের বাচ্চা, যা ১৯৯৭ সালে চিড়িয়াখানা থেকে আনা হয়েছিল। বয়ামের ভেতর যেন তারা সময়ের বুকে থেমে গেছে।

 

এ ছাড়া গেছো ব্যাঙ, খইয়া গোখরো, দুমুখো সাপ, শঙ্খিনী, দুধরাজ, জলপাইরঙা কাছিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ তাকজুড়ে সাজানো। ঘড়িয়ালের ডিম পর্যন্ত রয়েছে সংগ্রহে। যেন এক কক্ষে পুরো জঙ্গলের জীববৈচিত্র্য।

 

পাখিদের জন্য রয়েছে আলাদা সংগ্রহশালা। সেখানে লালবুক টিয়া, ময়না, লক্ষ্মীপ্যাঁচা, পাহাড়ি ময়না, সবুজ টিয়া, সুন্দরী হাঁস, ভাতশালিক, ঝুঁটি শালিকের মতো পাখি রাখা হয়েছে ট্যাক্সিডার্মি পদ্ধতিতে। তবে সবচেয়ে দৃষ্টি কাড়ে ‘কালিম’ বা বেগুনি জলচর পাখি, যা ২০১৭ সালে ঢাকার একটি জলাধারের এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়।

 

‘প্রাণীগুলোকে জীবন্তের মতো সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব’

 

বিএফআরআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, ১৯৭৮ সালে মৃত বিরল প্রাণী সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই এ সংগ্রহ বাড়তে থাকে। দেশে বিলুপ্তপ্রায় অনেক প্রজাতিই এ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিটি নমুনা কাচের বয়ামে ফরমালডিহাইড দ্রবণে রাখা হয় এবং প্রতিবছর দ্রবণ পরিবর্তন করা হয় যাতে নমুনার আকৃতি অক্ষুণ্ণ থাকে।

 

তিনি বলেন, “এ জাদুঘর শুধু প্রদর্শনী নয়; এটি গবেষণা, শিক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ভবিষ্যতে জাদুঘরকে আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

 

গুইসাপসহ উপকারী প্রাণীর সংগ্রহও গুরুত্বপূর্ণ

 

১৯৯২ সালে মিরসরাই থেকে সংগ্রহ করা গুইসাপের বাচ্চাটি জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ। গুইসাপ পরিবেশে অত্যন্ত উপকারী হলেও তাদের আবাস ধ্বংস হওয়ায় সংখ্যা কমছে। জাদুঘরটি তাই শুধু সংগ্রহশালা নয়, বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রাণীদের স্মৃতি ধরে রাখার স্থানও।

Share this news as a Photo Card