১২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে পুলিশ পরিদর্শকের বাসায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট

 

নেত্রকোনার মদনে পুলিশ পরিদর্শক আজহারুল ইসলামের বাসায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতরা প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি পাশের কয়েকটি বাড়িতেও তালা ঝুলিয়ে দেয় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র।

রোববার রাত আনুমানিক ১টার দিকে পৌর সদরের ৩নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম বর্তমানে নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ ডাকাত দল প্রথমে পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আজহারুল ইসলামের ছোট ভাই জাকু মিয়াকে চেতনা নাশক ওষুধ সেবন করায়। পরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় এনে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারকে ডাকাডাকি করে ঘরে প্রবেশ করে। জাকু মিয়া অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করলে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারের সন্দেহ হয়। তিনি কথা বলতে চাইলে ডাকাতরা তাকে ও তার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর বসতঘরে থাকা আলমারির তালা ভেঙে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এদিকে জাকু মিয়াকে মদন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

জাকুর স্ত্রী নাসরিন আক্তার জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে কয়েকজন লোক তার স্বামীকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে এসে দরজা খুলতে বলে। স্বামীকে দেখে তিনি দরজা খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমেই তার সন্দেহ হয়। তিনি কথা বলতে চাইলে ডাকাতরা তার দুই হাত বেঁধে ফেলে। পরে আলমারির তালা ভেঙে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় এবং তাকে ও তার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তাদের হাতে অস্ত্রও ছিল। এ সময় কাউকে চিনতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, দুই থেকে তিনজনকে চিনতে পেরেছেন।

 

জাকু মিয়া জানান, গতকাল রাত নয়টার পর তার এক বন্ধু তাকে চা পান করান। এরপর তাকে গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর কিছু বলতে পারেন না। রাত ১টার দিকে তার চেতনা ফিরে এলে ডাকাতরা তাকে বাসায় নিয়ে আসে। তার স্ত্রী তাকে দেখে বাসার গেট খুলে দেন। এরপর ডাকাতরা তার সঙ্গে বাসায় প্রবেশ করে এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার স্ত্রীর হাত বেঁধে ফেলে। এরপর কী হয়েছে, তিনি আর জানেন না।

 

মদন থানার ওসি হাসনাত জামান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

১৫ আগস্ট ঘিরে ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি

বকশীগঞ্জে ব্রিজের এপ্রোচ ধসে বন্ধ ভারী যান চলাচল, মেরামতে উপজেলা প্রশাসন

13 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদনে পুলিশ পরিদর্শকের বাসায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট

পোষ্টের সময় : ০২:৪৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদনে পুলিশ পরিদর্শক আজহারুল ইসলামের বাসায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতরা প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি পাশের কয়েকটি বাড়িতেও তালা ঝুলিয়ে দেয় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র।

রোববার রাত আনুমানিক ১টার দিকে পৌর সদরের ৩নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম বর্তমানে নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ ডাকাত দল প্রথমে পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আজহারুল ইসলামের ছোট ভাই জাকু মিয়াকে চেতনা নাশক ওষুধ সেবন করায়। পরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় এনে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারকে ডাকাডাকি করে ঘরে প্রবেশ করে। জাকু মিয়া অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করলে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারের সন্দেহ হয়। তিনি কথা বলতে চাইলে ডাকাতরা তাকে ও তার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর বসতঘরে থাকা আলমারির তালা ভেঙে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এদিকে জাকু মিয়াকে মদন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

জাকুর স্ত্রী নাসরিন আক্তার জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে কয়েকজন লোক তার স্বামীকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে এসে দরজা খুলতে বলে। স্বামীকে দেখে তিনি দরজা খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমেই তার সন্দেহ হয়। তিনি কথা বলতে চাইলে ডাকাতরা তার দুই হাত বেঁধে ফেলে। পরে আলমারির তালা ভেঙে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় এবং তাকে ও তার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তাদের হাতে অস্ত্রও ছিল। এ সময় কাউকে চিনতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, দুই থেকে তিনজনকে চিনতে পেরেছেন।

 

জাকু মিয়া জানান, গতকাল রাত নয়টার পর তার এক বন্ধু তাকে চা পান করান। এরপর তাকে গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর কিছু বলতে পারেন না। রাত ১টার দিকে তার চেতনা ফিরে এলে ডাকাতরা তাকে বাসায় নিয়ে আসে। তার স্ত্রী তাকে দেখে বাসার গেট খুলে দেন। এরপর ডাকাতরা তার সঙ্গে বাসায় প্রবেশ করে এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার স্ত্রীর হাত বেঁধে ফেলে। এরপর কী হয়েছে, তিনি আর জানেন না।

 

মদন থানার ওসি হাসনাত জামান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

 

Share this news as a Photo Card