ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩২ নং ওয়ার্ডের চায়নামোড় এলাকায় চিহ্নিত মাদককারবারি ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) মধ্যরাতে চিহ্নিত মাদককারবারি আকাশ, রনি, আলামিন, সজিব মুন্সী, আবু, শরীফ ও হীরাগংরা চরকালি এলাকার রেললাইন সংলগ্ন আব্দুর রহমানের বাড়িতে সশস্ত্রে অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে জীবন, কামাল, সোহরাব, রিদয় ও আলিফসহ বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। গুরুতর আহত সোহরাব ও জীবন বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সোহরাবের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
উক্ত হামলার ঘটনায় আব্দুর রহমান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে মামলায় ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা গতকাল ১৭ এপ্রিল রাতে আবারও বাদীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে। বারবার এমন ঘটনায় এলাকাবাসী বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আজকের মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন ৩২ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মিয়া এবং ৩২ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সুজন মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মানববন্ধনে শত শত মানুষ অংশ নিয়ে ‘মাদকমুক্ত এলাকা চাই’ স্লোগান দেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আকাশ ও রনির নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে (আকাশের নামে ৬টি ও রনির নামে ৪টি)। তা সত্ত্বেও তারা এলাকায় অবাধে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চায়নামোড় এলাকায় হাত বাড়ালেই গাঁজা, ইয়াবা, নেশার ইনজেকশন ও চোলাই মদ পাওয়া যাচ্ছে, যা তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই চিহ্নিত মাদককারবারি ও অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হলে ভবিষ্যতে সড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তারা।
এলাকাবাসী এখন প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানাচ্ছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 
























