ময়মনসিংহে পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে ৫ ঘন্টায় দুই বোনসহ ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ৪ জনই কন্যা শিশু।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১টা থেকে থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত জেলার গৌরীপুরে দুই বোন, গফরগাওয়ে এক কন্যা শিশু ও ফুলপুরে এক কন্যা শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জেলার গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বীর পশ্চিমপাড়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা শিশুরা হলেন, ওই গ্রামের সুলতান মিয়ার রিয়ামনি (৮) ও ইলমা (৪) আক্তার। এদের মধ্যে রিয়ামনি স্থানীয় বীর পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বিদ্যালয় থেকে রিয়ামনি বাড়ি ফিরে। পরে দুপুর ২টায় ছোট বোন ইলমাকে নিয়ে পুকুরের পাড়ে যায়। পুকুরপাড়ে গেলে ইলমা কাঁদায় পড়ে যায়। কাঁদা ধুঁইতে পুকুরের পানিতে নামলে ছোট বোন ইলমা পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে।
এ সময় তাকে উদ্ধার করতে বড় বোন রিয়ামনি পানিতে ঝাঁপ দিলে দুজনই ডুবে যায়। বিষয়টি আট বছরের আরেক শিশু সুমাইয়া দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জানায়। স্বজনরা তাৎক্ষণিক পুকুরপাড়ে গিয়ে রিয়ামনিকে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, নিখোঁজ ছোট বোন ইলমাকে স্থানীয়রা দুই দফা খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। তারা এসে উদ্ধার করতে না পারায় ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে জানানো হয়। পরে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় পুকুর থেকে ইলমার মরদেহ আনুমানিক সাড়ে ৬টায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
দুই সন্তানকে হারিয়ে মা নার্গিস বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন আর বিলাপ করে বলছেন, আমার বুকের ধন দ্ইুটা পুকুরের পানিতে ডুবে মারা গেল। রিয়ামনি স্কুল থেকে এসে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা ছিল। ছোটটা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সময় বড় মেয়ে তুলতে গিয়ে সেও ডুবে গেল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব!
দুই মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বাবা সুলতান মিয়া এবং ঘরের বারান্দায় অচেতন অবস্থায় পরে আছেন। দুই বোনের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রæত ডুবুরি দল নিয়ে তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
গৌরীপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবিযোগ না থাকায় বিনা ময়না তদন্তে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।
এদিকে, গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামা বলেন, আজ রবিবার দুপুরে উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের বাগুয়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে মুনতাহা নামে দেড় বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত মুনতাহা ওই গ্রামের শামছুল আলমের মেয়ে।
তিনি বলেন, দুপুরে দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে শিশু বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। কিছুক্ষন পর তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা মুনতাহাকে উদ্ধার করে। পরে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।
গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.লাবিবা বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন।
অপরদিকে ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, বিকাল ৩ টার দিকে উপজেলার বেলটিয়া গ্রামে বাড়ির পাশে পানিতে ডুবে লামিয়া আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত লামিয়া ওই গ্রামের মো. সায়েদুল ইসলামের মেয়ে।
তিনি বলেন, স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করা হয়। তবে, নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার 




















