০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ আসন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোটে এনসিপি

 

দীর্ঘ আলোচনার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা তরুণদের এই দলটি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার শর্তে জোটে যুক্ত হয়েছে। দলটির ভেতরে একাংশের আপত্তি ও টানাপোড়েনের মধ্যেই টানা পাঁচ দিনের আলোচনার পর রোববার এই জোটভুক্তির ঘোষণা আসে। একই সঙ্গে বিএনপির জোট ছেড়ে আসা এলডিপিও নতুন এই জোটে যোগ দেওয়ায় জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০-এ।

 

জোটের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতাও হয়েছে। সেই অনুযায়ী এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়া হয়েছে। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে ৩১টি আসন এবং মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩টি আসন। তবে এই দুই দলই নির্ধারিত আসনসংখ্যায় সন্তুষ্ট নয় এবং আরও বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

 

আসন সমঝোতা না হওয়ায় এবি পার্টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেয়নি। জামায়াত তিনটি আসন ছাড়তে রাজি হলেও এবি পার্টি অন্তত ১০টি আসন দাবি করছে। একইভাবে আসন না পাওয়ায় বিএনপি ছেড়ে আসা লেবার পার্টিসহ কয়েকটি দলকে জামায়াতের জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

জোট সমঝোতার অংশ হিসেবে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি আসন ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে নাহিদ ইসলামকে ঢাকা-১১, আখতার হোসেনকে রংপুর-৪, সারজিস আলমকে পঞ্চগড়-১, হাসনাত আবদুল্লাহকে কুমিল্লা-৪, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা-৮ এবং আরিফুল ইসলাম আদীবকে ঢাকা-১৮ আসন দেওয়া হয়েছে।

 

তবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এনসিপির ভেতরে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন পদত্যাগ করেন। এর আগের দিন দল ছাড়েন ডা. তাসনিম জারা। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিনসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলেও আলোচনা চলছে।

 

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, এনসিপি ও এলডিপি তাদের নির্বাচনী সমঝোতার উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। এ সময় তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম।

 

এরপর রাতে রাজধানীর বাংলামটরে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে তাদের নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। যেসব আসনে শাপলা কলির প্রার্থী থাকবে না, সেখানে এনসিপি সমমনা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

 

এনসিপির ওই সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতা করা নেত্রী সামান্থা শারমিন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য নাহিদ সারোয়ার নিভা উপস্থিত ছিলেন না। জামায়াত ও এনসিপি—দুই পক্ষই পৃথক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানায়, এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়; বরং একটি নির্বাচনী সমঝোতা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট, রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক লড়াই—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই সমঝোতা গড়ে উঠেছে বলে জানানো হয়।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

১৫ আগস্ট ঘিরে ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি

বকশীগঞ্জে ব্রিজের এপ্রোচ ধসে বন্ধ ভারী যান চলাচল, মেরামতে উপজেলা প্রশাসন

13 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

৩০ আসন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোটে এনসিপি

পোষ্টের সময় : ০৯:৫৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

 

দীর্ঘ আলোচনার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা তরুণদের এই দলটি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার শর্তে জোটে যুক্ত হয়েছে। দলটির ভেতরে একাংশের আপত্তি ও টানাপোড়েনের মধ্যেই টানা পাঁচ দিনের আলোচনার পর রোববার এই জোটভুক্তির ঘোষণা আসে। একই সঙ্গে বিএনপির জোট ছেড়ে আসা এলডিপিও নতুন এই জোটে যোগ দেওয়ায় জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০-এ।

 

জোটের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতাও হয়েছে। সেই অনুযায়ী এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়া হয়েছে। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে ৩১টি আসন এবং মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩টি আসন। তবে এই দুই দলই নির্ধারিত আসনসংখ্যায় সন্তুষ্ট নয় এবং আরও বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

 

আসন সমঝোতা না হওয়ায় এবি পার্টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেয়নি। জামায়াত তিনটি আসন ছাড়তে রাজি হলেও এবি পার্টি অন্তত ১০টি আসন দাবি করছে। একইভাবে আসন না পাওয়ায় বিএনপি ছেড়ে আসা লেবার পার্টিসহ কয়েকটি দলকে জামায়াতের জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

জোট সমঝোতার অংশ হিসেবে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি আসন ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে নাহিদ ইসলামকে ঢাকা-১১, আখতার হোসেনকে রংপুর-৪, সারজিস আলমকে পঞ্চগড়-১, হাসনাত আবদুল্লাহকে কুমিল্লা-৪, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা-৮ এবং আরিফুল ইসলাম আদীবকে ঢাকা-১৮ আসন দেওয়া হয়েছে।

 

তবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এনসিপির ভেতরে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন পদত্যাগ করেন। এর আগের দিন দল ছাড়েন ডা. তাসনিম জারা। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিনসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলেও আলোচনা চলছে।

 

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, এনসিপি ও এলডিপি তাদের নির্বাচনী সমঝোতার উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। এ সময় তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম।

 

এরপর রাতে রাজধানীর বাংলামটরে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে তাদের নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। যেসব আসনে শাপলা কলির প্রার্থী থাকবে না, সেখানে এনসিপি সমমনা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

 

এনসিপির ওই সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতা করা নেত্রী সামান্থা শারমিন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য নাহিদ সারোয়ার নিভা উপস্থিত ছিলেন না। জামায়াত ও এনসিপি—দুই পক্ষই পৃথক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানায়, এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়; বরং একটি নির্বাচনী সমঝোতা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট, রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক লড়াই—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই সমঝোতা গড়ে উঠেছে বলে জানানো হয়।

 

Share this news as a Photo Card