নেত্রকোনার মদন উপজেলার বাস্তা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নির্বাচন ছাড়াই ‘পকেট ম্যানেজিং কমিটি’ গঠনের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজন অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ১৫ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগকারী অভিভাবকরাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারের যোগসাজশে নির্বাচন না করে কাগজে-কলমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন দেখিয়ে গোপনে সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে একটি পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী অভিভাবক সদস্য পুতুল মিয়া বলেন, “আমিও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। পরে জানতে পারি নির্বাচন হবে না। ভারপ্রাপ্ত সুপার কয়েকজনকে নিয়ে গোপনে কমিটি গঠন করেছেন বলে শুনেছি। তাই আমরা চারজন অভিভাবক মিলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিয়শ্রী নূরেল হোসেন খান একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “গোপনে কোনো কমিটি গঠন হয়নি। এলাকায় মাইকিং করে সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা অভিযোগ করেছেন তারাও ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং উপস্থিতির স্বাক্ষর দিয়েছেন। এখন তারা কেন অভিযোগ করেছেন, তা বুঝতে পারছি না।”
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আহসান উল্লাহও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “ম্যানেজিং কমিটি গঠনে আমার ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা নেই। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে চারজন সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। অভিযোগকারীরাও ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।”
এ বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসার ও একাডেমি সুপারভাইজার জোছনা আক্তার বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। এলাকার সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত চারজনের নাম সুপার আমাকে দিয়েছেন। সেই নামগুলো প্রতিবেদন আকারে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে। যতদূর জানি, প্রায় ৫০ বছর ধরে এই মাদ্রাসায় কখনো নির্বাচন হয়নি। প্রতিবারই সর্বসম্মতিক্রমে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাই অভিযোগের কোনো ভিত্তি আছে বলে মনে হয় না।”
এ বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, “নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলে অবশ্যই নির্বাচন হবে। গোপনে কমিটি গঠনের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগটি এখনও হাতে পাইনি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 



















