১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইন জুয়ায় আসক্ত মামুন দুই বছরে ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক

 

ময়মনসিংহে অনলাইনে খেলে জুয়া অন্তত ২০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া আশরাফুল ইসলাম মামুন (৩৮) নামে এক সাইবার স্পেশালিষ্টকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

 

গ্রেপ্তার মামুন জেলার সদর উপজেলার চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের দিগলাপাড়া গ্রামের কাঠ মিস্ত্রী আব্দুল খালেকের ছেলে।

 

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ১০ টার দিকে নগরীর শম্ভুগঞ্জ মাছ এলাকার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পর দিন জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬ নতুন আইনে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক ইমরান বাদি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

মামলায় উল্লেখ্য করা হয়, গত জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখার নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযানে ছিলেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক ইমরান ও তার সঙ্গীয় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিত৷ তারা জানতে পারে শম্ভুগঞ্জ মাছ বাজার এলাকায় একদর অনলাইন জুয়াড়ি জুয়া খেলছেন ও বিপুল পরিমান টাকা লেনদেন করছেন। এমন সংবাদ পেয়ে মাছ বাজার এলাকায় আসতেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় আশরাফুল আলাম মামুনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও অপর ৩/৪ জন পালিয়ে যায।

 

পরে বাজারের লোকজনের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে একটি রেডমি নোট ১২ প্রো মোন জব্দ করা হয়। পরে মোবাইল ঘেটে অনলাইন জুয়ার ৯৩ টি স্ক্রীনশট, ওয়ান এক্স বেট, মেলবেটসহ একাধিক অনলাইন বেটিং এ্যাপস এবং অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

 

এদিকে, আশরাফুল আলাম মামুনকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার অপকর্মের বিষয়টি সামনে আসে। আশরাফুল আলাম মামুনের এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামুন দুই বছর আগে গার্মেন্টস শ্রমিক ছিল। সেখান থেকে ফিরে ল্যাংড়া বাজারে মোবাইল রিচার্জের দোকান দেন। নিয়মিত তার দোকানে অপরিচিত যুবকরা ভীড় করতেন। সেখান থেকে তার উত্থানের শুরু।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামুন দুই বছরে অন্তত ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ও নগর টাকার মালিক। দুই বছরে ১৬ শতাংশ জমিতে বিশাল বাইন্ডারি দিয়ে তিন তলা ডুপ্লেক্স বাড়ি, ১৮ শতাংশ জমিতে গরুর খামার। তাতে রয়েছে ৫০ টি ষাড় গরু। ৫ শতাংশ জমির উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নিজের নিরাপত্তার জন্য খামারের চেম্বারে রাখেন উন্নত মানের বন্দুক, এছাড়া নামে-বেনামে জমি। অন্তত ২০ কেটি টাকার সম্পদ ও নগদ টাকার মালিক।

 

জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক ইমরান বলেন, আশরাফুল আলম ফারুকের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগ ছিল। এরই প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে মামলা দিয়ে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহে মিউজিক ফোরামের পদযাত্রা, শতাধিক শিল্পীর সঙ্গীত পরিবেশনা

হালুয়াঘাটে এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

04 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

অনলাইন জুয়ায় আসক্ত মামুন দুই বছরে ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক

পোষ্টের সময় : ০৯:৪৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

 

ময়মনসিংহে অনলাইনে খেলে জুয়া অন্তত ২০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া আশরাফুল ইসলাম মামুন (৩৮) নামে এক সাইবার স্পেশালিষ্টকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

 

গ্রেপ্তার মামুন জেলার সদর উপজেলার চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের দিগলাপাড়া গ্রামের কাঠ মিস্ত্রী আব্দুল খালেকের ছেলে।

 

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ১০ টার দিকে নগরীর শম্ভুগঞ্জ মাছ এলাকার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পর দিন জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬ নতুন আইনে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক ইমরান বাদি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

মামলায় উল্লেখ্য করা হয়, গত জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখার নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযানে ছিলেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক ইমরান ও তার সঙ্গীয় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিত৷ তারা জানতে পারে শম্ভুগঞ্জ মাছ বাজার এলাকায় একদর অনলাইন জুয়াড়ি জুয়া খেলছেন ও বিপুল পরিমান টাকা লেনদেন করছেন। এমন সংবাদ পেয়ে মাছ বাজার এলাকায় আসতেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় আশরাফুল আলাম মামুনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও অপর ৩/৪ জন পালিয়ে যায।

 

পরে বাজারের লোকজনের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে একটি রেডমি নোট ১২ প্রো মোন জব্দ করা হয়। পরে মোবাইল ঘেটে অনলাইন জুয়ার ৯৩ টি স্ক্রীনশট, ওয়ান এক্স বেট, মেলবেটসহ একাধিক অনলাইন বেটিং এ্যাপস এবং অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

 

এদিকে, আশরাফুল আলাম মামুনকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার অপকর্মের বিষয়টি সামনে আসে। আশরাফুল আলাম মামুনের এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামুন দুই বছর আগে গার্মেন্টস শ্রমিক ছিল। সেখান থেকে ফিরে ল্যাংড়া বাজারে মোবাইল রিচার্জের দোকান দেন। নিয়মিত তার দোকানে অপরিচিত যুবকরা ভীড় করতেন। সেখান থেকে তার উত্থানের শুরু।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামুন দুই বছরে অন্তত ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ও নগর টাকার মালিক। দুই বছরে ১৬ শতাংশ জমিতে বিশাল বাইন্ডারি দিয়ে তিন তলা ডুপ্লেক্স বাড়ি, ১৮ শতাংশ জমিতে গরুর খামার। তাতে রয়েছে ৫০ টি ষাড় গরু। ৫ শতাংশ জমির উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নিজের নিরাপত্তার জন্য খামারের চেম্বারে রাখেন উন্নত মানের বন্দুক, এছাড়া নামে-বেনামে জমি। অন্তত ২০ কেটি টাকার সম্পদ ও নগদ টাকার মালিক।

 

জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক ইমরান বলেন, আশরাফুল আলম ফারুকের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগ ছিল। এরই প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে মামলা দিয়ে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card