০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক চাকরিতে সীমাবদ্ধ এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী

 

বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এখন থেকে একাধিক পেশা বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে একই সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। সাংবাদিকতা, আইন পেশাসহ সব ধরনের অতিরিক্ত আয়মূলক কাজে যুক্ত থাকা নিষিদ্ধ করে নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিলের পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

 

মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ “বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫” প্রকাশ করে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একাধিক চাকরি, পদ বা আর্থিক সুবিধাভোগী কোনো দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।

 

নীতিমালায় ‘আর্থিক লাভজনক পদ’ বলতে বোঝানো হয়েছে—সরকারি কিংবা বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা বিশেষায়িত জায়গা থেকে প্রাপ্ত বেতন, ভাতা, সম্মানী বা পেশাগত আয়। এর মধ্যে আইন পেশা, সাংবাদিকতা কিংবা অন্য কোনো পেশাগত কাজও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যদি সেখান থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়।

 

বর্তমানে দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী।

 

এতদিন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের কাছ থেকে মূল বেতন ছাড়াও মাসিক ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেতেন। সম্প্রতি সরকার তাঁদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বাড়তি অর্থ দুই ধাপে কার্যকর হচ্ছে—এর মধ্যে ৭.৫ শতাংশ (ন্যূনতম দুই হাজার টাকা) গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং বাকি ৭.৫ শতাংশ আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

 

নতুন নীতিমালার ফলে শিক্ষকতা পেশায় সম্পূর্ণ মনোযোগ নিশ্চিত করা এবং এমপিও ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসছিল পুলিশ সদস্যের বাবার লাশ

আওয়ামী বন্দোবস্তের অপরাজনীতি করে জুলাই চেতনা ভূলুণ্ঠিত করছে জামায়াত-এনসিপি: প্রিন্স

31 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

এক চাকরিতে সীমাবদ্ধ এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী

পোষ্টের সময় : ০৬:২৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

 

বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এখন থেকে একাধিক পেশা বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে একই সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। সাংবাদিকতা, আইন পেশাসহ সব ধরনের অতিরিক্ত আয়মূলক কাজে যুক্ত থাকা নিষিদ্ধ করে নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিলের পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

 

মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ “বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫” প্রকাশ করে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একাধিক চাকরি, পদ বা আর্থিক সুবিধাভোগী কোনো দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।

 

নীতিমালায় ‘আর্থিক লাভজনক পদ’ বলতে বোঝানো হয়েছে—সরকারি কিংবা বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা বিশেষায়িত জায়গা থেকে প্রাপ্ত বেতন, ভাতা, সম্মানী বা পেশাগত আয়। এর মধ্যে আইন পেশা, সাংবাদিকতা কিংবা অন্য কোনো পেশাগত কাজও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যদি সেখান থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়।

 

বর্তমানে দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী।

 

এতদিন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের কাছ থেকে মূল বেতন ছাড়াও মাসিক ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেতেন। সম্প্রতি সরকার তাঁদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বাড়তি অর্থ দুই ধাপে কার্যকর হচ্ছে—এর মধ্যে ৭.৫ শতাংশ (ন্যূনতম দুই হাজার টাকা) গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং বাকি ৭.৫ শতাংশ আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

 

নতুন নীতিমালার ফলে শিক্ষকতা পেশায় সম্পূর্ণ মনোযোগ নিশ্চিত করা এবং এমপিও ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

Share this news as a Photo Card