শেরপুরের নকলায় শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে হুজুরা খাতুন (৫৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় করা মামলায় এজাহারনামীয় তিন আসামিকে ঘটনার প্রায় ৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের পুত্রবধূ মোছা. সাদিয়া আক্তার (২২) বাদী হয়ে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নকলা উপজেলার কায়দা গ্রামের বেগুনপট্টি এলাকার বাকিল মিয়ার ছেলে হাসু মিয়া (৪৫), হাসু মিয়ার ছেলে কামরুল হাসান (১৯) এবং হাসু মিয়ার স্ত্রী মোছা. কুলসুম বেগম (৪০)। হাসু মিয়া ও কুলসুম বেগম গ্রেফতারকৃত কামরুল হাসানের বাবা-মা।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার কায়দা গ্রামের বেগুনপট্টি এলাকায় সাদিয়া আক্তারের ছেলে সিফাত (৪) ও এক বিবাদীর ছেলে আবির (৬) খেলাধুলার সময় ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ২টার দিকে বিবাদীদের বাড়ির উঠানে হুজুরা খাতুনকে মারধর করা হয়। এ সময় কাঠের সারক দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। পরে ঘটনাস্থলে সাদিয়ার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা গেলে তাঁদের ওপরও লাঠি, কাঠের সারক ও লোহার শাবল দিয়ে হামলা করে। হামলায় সাদিয়ার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ কয়েকজন আহত হন।
আহতদের প্রথমে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত হুজুরা খাতুনসহ কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে হুজুরা খাতুনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার প্রায় ৮ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ একজনকে নকলা ও বাকী দুজনকে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার করেন।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে প্রায় ৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত চলছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি 





















