মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর সদ্য পদত্যাগ করা মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান পদত্যাগের পর এক আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের অভিমত প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে লিখেছেন, যাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষা করছেন, তাঁরা খুব শিগগিরই এর ফল ভোগ করবেন।
তিনি লেখেন, “মুক্ত জীবনের অপেক্ষায় আছি। দেশ স্বাধীন, নাগরিকও স্বাধীন। তাই নিজের মত প্রকাশের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। আমরা করদাতা, আর করদাতার মতামত করখোরদের চেয়ে বেশি মূল্যবান।” তাঁর এই বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা ও ব্যক্তিগত অপমানবোধের প্রতিফলন দেখা যায়।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যাঁরা নিজেদের কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতিনিধি ভেবে অন্যদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চান, তাঁরা অচিরেই নিজেদের কাজের পরিণতি ভোগ করবেন। বর্তমান পরিস্থিতি স্থায়ী নয়। সবার মুখোশ খুলে যাবে। ৫ আগস্টের চেয়েও কঠিন সময় কিছু গোষ্ঠীর জন্য অপেক্ষা করছে। জনগণ জেগে উঠবে।”
সূত্র জানায়, ৭ অক্টোবর অধ্যাপক আজাদ খান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
মাউশির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অধ্যাপক আজাদ খানের পদত্যাগের পেছনে প্রধান কারণ হলো তাঁর দায়িত্বকাল চলমান থাকা অবস্থাতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নতুন ডিজি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা। মাউশির ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলেই তাঁরা মনে করছেন।
তাঁদের মতে, এ ঘটনায় অধ্যাপক আজাদ খান নিজেকে অসম্মানিত ও অপমানিত মনে করেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্ট্যাটাসে যে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা প্রশাসনিক পরিসরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল পদত্যাগ নয়—বরং শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গভীর সংকেত।
স্টাফ রিপোর্টার 


























