০৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিলের পাশে সন্তানের সামনে ধর্ষনের শিকার নারী

 

ময়মনসিংহের নান্দাইলে তিন বছর বয়সি কন্যা শিশুর সামনে এক নারী (২৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষনের শিকার হয়েছে।

 

শনিবার (২৫ এপিল) দুপুরে ভোক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গুরুতর অসুস্থ মা ও আহত শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর পাঁচদিন আগে নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী এলাকায় ওই নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়।

 

ওই নারী উপজেলার কান্দিউড়া গ্রামের ইন্দু মিয়ার বাড়ির পাশে মতি মিয়ার বাড়িতেই তিনি আশ্রয়ে ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরে নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

 

গ্রামের সুজন মিয়া নামে এক ইজিবাইক চালক বলেন, গত সোমবার রাতে তিনি পাশেই নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী বাজারে ইজিবাইক চালাচ্ছিলেন। ওই সময় গভীর রাতে শিশু কোলে এক নারীকে কাঁদতে দেখে কাছে গিয়ে জানতে চাইলে ওই নারী তাঁকে জানায়, তাকে (নারী) চারজন মিলে পাশের একটি বিলের পাশে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষন করে। পরে আবার অন্য দুইজন বাড়িতে নিয়ে ধর্ষন করে। বিলের পাশে ধর্ষনের সময় কাছে থাকা শিশুটি চিৎকার করলে তাকে জোরপূর্বক টেনে নিতে চাইলে তিনি ঝাপটে ধরে রাখেন। এ সময় ধর্ষনকারীরা শিশুকে ঘুষি মারে। এতে বাম চোখের নিচে ক্ষত হয়।

 

নারীর এসব বর্ণনা শুনে সুজন মিয়া নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে মতি মিয়ার স্ত্রী হবিনা বেগম ওই নারীকে সেবা দিয়ে খেতে ও থাকার দেন। এর মধ্যে পাশের কান্দিউড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে কাজল মিয়া নামে এক যুবক গভীর রাতে এসে ওই নারীকে নিজের আত্মীয় বলে নিয়ে যেতে চাইলে নির্যাতনের শিকার নারী কাজলকে চিনেনা বলে জানালে সে কেটে পড়ে।

 

এর মধ্যে এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাসারত মিয়া ঘটনা ধামাচাপা দিকে তৎপর হয়ে উঠেন। তিনি আশ্রয়দাতার বাড়িতে গিয়ে হুমকী দেন কেন ওই নারীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কিছু টাকা যোগাড় করে তার কাছে দেওয়ার জন্য অন্যথায় ঝামেলায় পড়তে হবে। এই কথায় আশ্রয় দাতা মতি মিয়ার পরিবার ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে বেকায়দায় পড়ে যান।

 

নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, তিনি গত রবিবার বিকালে ময়মনসিংহের একটি এলাকার বাবার বাড়ি থেকে শ^শুড় বাড়ি ভালুকা যাওয়ার জন্য শিশু কন্যাকে সাথে নিয়ে রওনা হন। সন্ধার পর তিনি পথ হারিয়ে ফেললে কয়েকজন লোক তাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। পরে নান্দাইল চৌরাস্থা থেকে তাড়াইল সড়ক দিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে সেখানেই একটি বিলের কাছে নিয়ে চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষন করে। পরে অপেক্ষামান দুইজন পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে ফের ধর্ষন করে।

 

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ভিক্টিম নারী তার পরিচয় সঠিক বলতে পারছে না। পিবিআই পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। তবে, ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী বুজা যাচ্ছে, যে তিনি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। নারীকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আগামীকাল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ভবন-ইমারতের নকশা অনুমোদন করবে মউক, মসিককে সহযোগিতার নির্দেশ

রাশিয়ায় নতুন ৫০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

10 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বিলের পাশে সন্তানের সামনে ধর্ষনের শিকার নারী

পোষ্টের সময় : ১০:১১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

 

ময়মনসিংহের নান্দাইলে তিন বছর বয়সি কন্যা শিশুর সামনে এক নারী (২৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষনের শিকার হয়েছে।

 

শনিবার (২৫ এপিল) দুপুরে ভোক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গুরুতর অসুস্থ মা ও আহত শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর পাঁচদিন আগে নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী এলাকায় ওই নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়।

 

ওই নারী উপজেলার কান্দিউড়া গ্রামের ইন্দু মিয়ার বাড়ির পাশে মতি মিয়ার বাড়িতেই তিনি আশ্রয়ে ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরে নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

 

গ্রামের সুজন মিয়া নামে এক ইজিবাইক চালক বলেন, গত সোমবার রাতে তিনি পাশেই নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী বাজারে ইজিবাইক চালাচ্ছিলেন। ওই সময় গভীর রাতে শিশু কোলে এক নারীকে কাঁদতে দেখে কাছে গিয়ে জানতে চাইলে ওই নারী তাঁকে জানায়, তাকে (নারী) চারজন মিলে পাশের একটি বিলের পাশে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষন করে। পরে আবার অন্য দুইজন বাড়িতে নিয়ে ধর্ষন করে। বিলের পাশে ধর্ষনের সময় কাছে থাকা শিশুটি চিৎকার করলে তাকে জোরপূর্বক টেনে নিতে চাইলে তিনি ঝাপটে ধরে রাখেন। এ সময় ধর্ষনকারীরা শিশুকে ঘুষি মারে। এতে বাম চোখের নিচে ক্ষত হয়।

 

নারীর এসব বর্ণনা শুনে সুজন মিয়া নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে মতি মিয়ার স্ত্রী হবিনা বেগম ওই নারীকে সেবা দিয়ে খেতে ও থাকার দেন। এর মধ্যে পাশের কান্দিউড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে কাজল মিয়া নামে এক যুবক গভীর রাতে এসে ওই নারীকে নিজের আত্মীয় বলে নিয়ে যেতে চাইলে নির্যাতনের শিকার নারী কাজলকে চিনেনা বলে জানালে সে কেটে পড়ে।

 

এর মধ্যে এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাসারত মিয়া ঘটনা ধামাচাপা দিকে তৎপর হয়ে উঠেন। তিনি আশ্রয়দাতার বাড়িতে গিয়ে হুমকী দেন কেন ওই নারীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কিছু টাকা যোগাড় করে তার কাছে দেওয়ার জন্য অন্যথায় ঝামেলায় পড়তে হবে। এই কথায় আশ্রয় দাতা মতি মিয়ার পরিবার ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে বেকায়দায় পড়ে যান।

 

নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, তিনি গত রবিবার বিকালে ময়মনসিংহের একটি এলাকার বাবার বাড়ি থেকে শ^শুড় বাড়ি ভালুকা যাওয়ার জন্য শিশু কন্যাকে সাথে নিয়ে রওনা হন। সন্ধার পর তিনি পথ হারিয়ে ফেললে কয়েকজন লোক তাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। পরে নান্দাইল চৌরাস্থা থেকে তাড়াইল সড়ক দিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে সেখানেই একটি বিলের কাছে নিয়ে চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষন করে। পরে অপেক্ষামান দুইজন পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে ফের ধর্ষন করে।

 

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ভিক্টিম নারী তার পরিচয় সঠিক বলতে পারছে না। পিবিআই পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। তবে, ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী বুজা যাচ্ছে, যে তিনি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। নারীকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আগামীকাল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

Share this news as a Photo Card