জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন হওয়ায় সময় ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ভোটগ্রহণের সময় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বাড়ানো, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটারদের জন্য আলাদা সহায়তা–নির্দেশনা জারি এবং কেন্দ্রে বুথ বাড়ানোর মতো নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ এসব সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, সময় বাড়ানোর পাশাপাশি যে সব কেন্দ্রে সংকুলান কম, সেখানে অতিরিক্ত সিক্রেট বুথ স্থাপন করতে হবে। জায়গা না থাকলে বিকল্প বুথ তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী ও অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত প্রস্তুতি
তিনি জানান, প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ছাপা আগামীকাল শুরু হবে এবং পরশুদিন থেকেই বিদেশে পাঠানো হবে। পোস্টাল ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় বাড়িয়ে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ১৫ দিন ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধন চলবে।
প্রচার সামগ্রী অপসারণে কঠোরতা
সানাউল্লাহ বলেন, আচরণবিধি নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী অপসারণ বাধ্যতামূলক করা হবে। নির্দেশনা না মানলে বিধিভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তফসিল ঘোষণার পরে ত্রাণ, অনুদান বা সুবিধা বিতরণেও নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। তবে বয়স্ক ভাতার মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চলতে পারবে।
প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি
তিনি আরও জানান, ভোটের আগের রাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো স্থানীয় সহায়তা ছাড়াই কেন্দ্রে পৌঁছাবেন—এ বিষয়ে ইসি কঠোর। এজন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সপ্তাহের মধ্যেই পরিপত্র জারি হবে। তফসিল ঘোষণার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে জুম মিটিং হবে, পরে প্রার্থী চূড়ান্ত হলে সামনাসামনি বৈঠক হবে।
মনিটরিং সেল ও ম্যাজিস্ট্রেট বাড়ানো
নির্বাচনী অনিয়ম ও ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল করা হবে। ৩০০ আসনে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে কাজ করবে। তফসিল ঘোষণার পর প্রতিটি উপজেলা/থানায় দুজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভোটের শেষ পাঁচ দিনে সংখ্যা বাড়ানো হবে।
অন্যান্য ব্যবস্থা
ভোটের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। দুর্গম এলাকায় ব্যালট ও কর্মকর্তাদের পরিবহনে হেলিকপ্টার ব্যবহার হবে। যেখানে প্রয়োজন, ব্যাংক ও পোস্ট অফিস খোলা রাখা হবে। ব্যালট পেপার আগের রাতেই কেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশ রয়েছে, যা কঠোর তদারকির আওতায় হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 























