১০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে মসজিদের ভিতরে সরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে মারামারির অভিযোগ, আহত ১

 

নেত্রকোনার মদনে মসজিদের ভিতরে সরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় বাচ্চু মিয়াকে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে তার চাচাতো মামারা। গুরুতর আহত বাচ্চু মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

শনিবার সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাসনপুর জামে মসজিদে এমন ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসী ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, মসজিদের ইমামের মাসিক বেতন দেয়ার জন্য মসজিদ কমিটিতে কোন ফান্ড নেই। এ নিয়ে মসজিদ কমিটি এবং গ্রামবাসী মসজিদের ভিতর একটি বৈঠক বসে। বৈঠকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি উপস্থিত ছিলেন। তবে কমিটির কেউ কেউ বলছেন গত কয়েক মাস আগে মসজিদের কিছু জমি ফিসারি দেয়ার জন্য পত্তন দেয়া হয়। ওই পত্তনের টাকা মসজিদের ক্যাশিয়ার এবং তার ছেলে ও ভাতিজার নিকট রয়েছে। এ নিয়েও আলোচনা চলছিল। তবে ফিসারি পত্তনের টাকা না দিলে গ্রামবাসী চাঁদা উত্তোলন করে ইমাম সাহেবের বেতন দেয়া হবে বলে সিন্ধান্ত হয়। এ সময় হাসনপুর গ্রামে উপস্থিত সরকারের দেয়া ইজারা পুকুর নিয়ে কথা উঠে আসে।

 

মসজিদের ক্যাশিয়ার কুতুব উদ্দিন সভায় বলেন, ওই পুকুর নিয়ে মামলা মোকাদ্দমা হচ্ছে। কেন ইব্রাহিম গ্রামের পক্ষে পুকুরটি ইজারা এনেছে ? পুকুরের আয় মসজিদে দিতে হবে। এ নিয়ে বৈঠকে বসা বাচ্চুর নানা বাবুল ও কুতুব উদ্দিনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে এ মারামারি ঘটনা ঘটে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে বসা কয়েকজন মাতাব্বর বলেন, ক্যাশিয়ারের ছেলে ও ভাতিজা আবু তালেবের নিকট মসজিদের জমি পত্তনের টাকা আছে। তারা দিচ্ছে না। এখন মসজিদের ইমামের টাকা দেবে ফান্ড নেই। এদিকে হাসনপুর গ্রামের সরকারি পুকুরটি কয়েকজনে জাল দলিল মূলে দখলে নিয়েছিল। পরে সরকারের পক্ষ থেকে মামলা হয়। এ মামলায় ক্যাশিয়ার কুতুব উদ্দিনসহ ৫জন আসামী ছিলেন। তারা জেলেও কেটেছে। তবে মসজিদের টাকা মেরে কেউ সুখী হতে পারবে না। এই টাকা আল্লাহর ঘরেই দিতে হবে একদিন।

 

এ ব্যাপারে কুতুব উদ্দিনের ছেলে মঞ্জিল মিয়া মাথা ফাটানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বাচ্চু আমার চাচাতো বোনের ছেলে। তাদের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। কিন্ত তার নানা বাবুল আমার বাবা কেন পুকুরের আয় মসজিদে দিতে হবে এ কথা বলার পর বাবাকে কিল ঘুষি মারে। বাবা কিল-ঘুষি খেয়ে বাড়িতে এসে আমাদেরকে জানায়। পরে আমরা মসজিদের পাশে ছুটে যাই। বাবুলকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে বাবুল ও বাচ্চু আমাদের চোখ উঠিয়ে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এ সময় বাচ্চুর সাথে ঠেলা ধাক্কা হয়েছে। আর কিছুই হয়নি।

 

তবে বাচ্চুর মাথা ফাটল কেমনে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মঞ্জিল আরও জানান, কিভাবে তার মাথা ফেটেছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই।

 

আহত বাচ্চুর মামা আবু তালেব জানান, পুকুরটি কেন ইজারা আনল এটাই ছিল তাদের অপরাধ। কারণ এই পুকুরটি তারা দখলে নেয়ার জন্য জাল দলিল করে। বিষয়টি জানাজানি হলে সরকারের পক্ষ থেকে মামলা হয়। চারজনে জেলও কেটেছে। এ নিয়েই মূলত এ ঘটনা। আমার ভাগ্নে এখন মৃত্যু শয্যায় রয়েছে। ময়মনসিংহ নিয়ে যাচ্ছে জানি না কি হয়। আপনার নিকট মসজিদের টাকা রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মসজিদের কোন টাকা পয়সা নেই। মূলত আমার চাচাতো ভাই কাঞ্চনের নিকট মসজিদের টাকা রয়েছে। সে এখন গ্রামের বাইরে অবস্থান করছে।

 

ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও মসজিদ কমিটির সভাপতির ভাতিজা সামিউল হায়দার সফি জানান, মসজিদে ইমামের বেতন টাকা না থাকায় মসজিদ কমিটি ও গ্রামবাসী বৈঠক বসছিল। আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। আমি বার বার ফেরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্ত কোন কাজ হয়নি। বিষয়টি খুবই দু:খ জনক।

 

মসজিদ কমিটির সভাপতি নূর হায়দারের সাথে এ ব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় কক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

 

মদন থানার ওসি সামছুল আলম শাহ জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে চেয়ারম্যান প্রার্থী পাপনের উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প

রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অভিনন্দন

21 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদনে মসজিদের ভিতরে সরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে মারামারির অভিযোগ, আহত ১

পোষ্টের সময় : ০৯:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

 

নেত্রকোনার মদনে মসজিদের ভিতরে সরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় বাচ্চু মিয়াকে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে তার চাচাতো মামারা। গুরুতর আহত বাচ্চু মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

শনিবার সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাসনপুর জামে মসজিদে এমন ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসী ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, মসজিদের ইমামের মাসিক বেতন দেয়ার জন্য মসজিদ কমিটিতে কোন ফান্ড নেই। এ নিয়ে মসজিদ কমিটি এবং গ্রামবাসী মসজিদের ভিতর একটি বৈঠক বসে। বৈঠকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি উপস্থিত ছিলেন। তবে কমিটির কেউ কেউ বলছেন গত কয়েক মাস আগে মসজিদের কিছু জমি ফিসারি দেয়ার জন্য পত্তন দেয়া হয়। ওই পত্তনের টাকা মসজিদের ক্যাশিয়ার এবং তার ছেলে ও ভাতিজার নিকট রয়েছে। এ নিয়েও আলোচনা চলছিল। তবে ফিসারি পত্তনের টাকা না দিলে গ্রামবাসী চাঁদা উত্তোলন করে ইমাম সাহেবের বেতন দেয়া হবে বলে সিন্ধান্ত হয়। এ সময় হাসনপুর গ্রামে উপস্থিত সরকারের দেয়া ইজারা পুকুর নিয়ে কথা উঠে আসে।

 

মসজিদের ক্যাশিয়ার কুতুব উদ্দিন সভায় বলেন, ওই পুকুর নিয়ে মামলা মোকাদ্দমা হচ্ছে। কেন ইব্রাহিম গ্রামের পক্ষে পুকুরটি ইজারা এনেছে ? পুকুরের আয় মসজিদে দিতে হবে। এ নিয়ে বৈঠকে বসা বাচ্চুর নানা বাবুল ও কুতুব উদ্দিনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে এ মারামারি ঘটনা ঘটে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে বসা কয়েকজন মাতাব্বর বলেন, ক্যাশিয়ারের ছেলে ও ভাতিজা আবু তালেবের নিকট মসজিদের জমি পত্তনের টাকা আছে। তারা দিচ্ছে না। এখন মসজিদের ইমামের টাকা দেবে ফান্ড নেই। এদিকে হাসনপুর গ্রামের সরকারি পুকুরটি কয়েকজনে জাল দলিল মূলে দখলে নিয়েছিল। পরে সরকারের পক্ষ থেকে মামলা হয়। এ মামলায় ক্যাশিয়ার কুতুব উদ্দিনসহ ৫জন আসামী ছিলেন। তারা জেলেও কেটেছে। তবে মসজিদের টাকা মেরে কেউ সুখী হতে পারবে না। এই টাকা আল্লাহর ঘরেই দিতে হবে একদিন।

 

এ ব্যাপারে কুতুব উদ্দিনের ছেলে মঞ্জিল মিয়া মাথা ফাটানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বাচ্চু আমার চাচাতো বোনের ছেলে। তাদের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। কিন্ত তার নানা বাবুল আমার বাবা কেন পুকুরের আয় মসজিদে দিতে হবে এ কথা বলার পর বাবাকে কিল ঘুষি মারে। বাবা কিল-ঘুষি খেয়ে বাড়িতে এসে আমাদেরকে জানায়। পরে আমরা মসজিদের পাশে ছুটে যাই। বাবুলকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে বাবুল ও বাচ্চু আমাদের চোখ উঠিয়ে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এ সময় বাচ্চুর সাথে ঠেলা ধাক্কা হয়েছে। আর কিছুই হয়নি।

 

তবে বাচ্চুর মাথা ফাটল কেমনে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মঞ্জিল আরও জানান, কিভাবে তার মাথা ফেটেছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই।

 

আহত বাচ্চুর মামা আবু তালেব জানান, পুকুরটি কেন ইজারা আনল এটাই ছিল তাদের অপরাধ। কারণ এই পুকুরটি তারা দখলে নেয়ার জন্য জাল দলিল করে। বিষয়টি জানাজানি হলে সরকারের পক্ষ থেকে মামলা হয়। চারজনে জেলও কেটেছে। এ নিয়েই মূলত এ ঘটনা। আমার ভাগ্নে এখন মৃত্যু শয্যায় রয়েছে। ময়মনসিংহ নিয়ে যাচ্ছে জানি না কি হয়। আপনার নিকট মসজিদের টাকা রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মসজিদের কোন টাকা পয়সা নেই। মূলত আমার চাচাতো ভাই কাঞ্চনের নিকট মসজিদের টাকা রয়েছে। সে এখন গ্রামের বাইরে অবস্থান করছে।

 

ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও মসজিদ কমিটির সভাপতির ভাতিজা সামিউল হায়দার সফি জানান, মসজিদে ইমামের বেতন টাকা না থাকায় মসজিদ কমিটি ও গ্রামবাসী বৈঠক বসছিল। আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। আমি বার বার ফেরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্ত কোন কাজ হয়নি। বিষয়টি খুবই দু:খ জনক।

 

মসজিদ কমিটির সভাপতি নূর হায়দারের সাথে এ ব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় কক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

 

মদন থানার ওসি সামছুল আলম শাহ জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card