০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদারগঞ্জে খানাখন্দে ভরা সড়ক: দুর্ভোগে দেড় লাখ মানুষ

মাদারগঞ্জে খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ। ছবি- ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস

 

সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়কের পিচঢালাই উঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ইটের খোয়া ও পাথর। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দের। একটু বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে। বাধ্য হয়েই এই সড়কে প্রতিনিয়ত চলাচল করে হাজারো মানুষ ও যানবাহন। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এমন বেহাল অবস্থা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের। স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে এ সড়ক সংস্কারের দাবি জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের বেশিরভাগ অংশের পিচঢালাই ও ইট-খোয়া উঠে খানাখন্দে ভরে গেছে। বেহাল দশার কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই যাত্রীসাধারণসহ চালকদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টে আহতের ঘটনাও ঘটছে। ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে পরিবহনগুলোকে চলতে হচ্ছে এঁকেবেঁকে হেলেদুলে, যা চালকদের জন্য কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, মাদারগঞ্জ পৌরসভার চাঁদপুর, চর গাবেরগ্রাম, দক্ষিণ চর বওলা, বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর শুভগাছা, কামারিয়ারাচর, বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের জামথল, চর ঘাগুয়া, টেংড়াকুড়া এলাকাসহ ২০টি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দেড় লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের অবলম্বন এ সড়ক। শুধু যাতায়াতই নয়। এই সড়ক দিয়েই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। এছাড়া চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল এই সড়ক দিয়েই বালিজুড়ী বাজারসহ আশপাশের বাজারে নিয়ে যান।
অটোরিকশাচালক তোফায়েল ইসলাম বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে এই সড়কে অটোরিকশা চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ সময় অটোরিকশা হেলে যায়। এতে অনেক যাত্রী পড়ে আহত হচ্ছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, আর ছবি তুলে কোনো লাভ নেই। অনেকেই শুধু শুধু ছবি তুলে নিয়ে যান। রাস্তা মেরামতের কোনো কাজ হয় না। এই অবস্থা কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। কিছু ইটের আদলা (ভাঙা ইট) ফেলে রাখলেও তো চলাচল করা যেত।

চাঁদপুর এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ, হাঁটাচলা করা খুব কষ্ট কর। পুরো সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। বৃষ্টি হলেই সড়ক পরিণত হয় ডোবা-নালায়। কাদা পানিতে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে রোগী, নারী ও শিশুরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

জামালপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওয়াজিস রহমান বিশ্বাস বলেন, বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। প্রকল্পটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সড়কটি ২৪ফুট প্রশস্ত করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি ঢাকা থেকে এসে সড়কটি দেখে গেছে। তারা মতামত দিয়েছে সড়কটি ২৪ফুটের স্থলে ১৮ফুট প্রশস্ত করার জন্য। এটি এখনও অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে আপাতত সড়কের গর্তগুলোতে দ্রুত কিছু খোয়া ও বালু ফেলা হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পানি জমে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে এমন অবস্থা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

দেওয়ানগঞ্জে মাদ্রাসার জমি উদ্ধার ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ধস, আটকা বহু মানুষ, সেনা মোতায়েন

28 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মাদারগঞ্জে খানাখন্দে ভরা সড়ক: দুর্ভোগে দেড় লাখ মানুষ

পোষ্টের সময় : ০৩:১০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

 

সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়কের পিচঢালাই উঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ইটের খোয়া ও পাথর। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দের। একটু বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে। বাধ্য হয়েই এই সড়কে প্রতিনিয়ত চলাচল করে হাজারো মানুষ ও যানবাহন। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এমন বেহাল অবস্থা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের। স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে এ সড়ক সংস্কারের দাবি জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের বেশিরভাগ অংশের পিচঢালাই ও ইট-খোয়া উঠে খানাখন্দে ভরে গেছে। বেহাল দশার কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই যাত্রীসাধারণসহ চালকদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টে আহতের ঘটনাও ঘটছে। ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে পরিবহনগুলোকে চলতে হচ্ছে এঁকেবেঁকে হেলেদুলে, যা চালকদের জন্য কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, মাদারগঞ্জ পৌরসভার চাঁদপুর, চর গাবেরগ্রাম, দক্ষিণ চর বওলা, বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর শুভগাছা, কামারিয়ারাচর, বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের জামথল, চর ঘাগুয়া, টেংড়াকুড়া এলাকাসহ ২০টি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দেড় লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের অবলম্বন এ সড়ক। শুধু যাতায়াতই নয়। এই সড়ক দিয়েই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। এছাড়া চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল এই সড়ক দিয়েই বালিজুড়ী বাজারসহ আশপাশের বাজারে নিয়ে যান।
অটোরিকশাচালক তোফায়েল ইসলাম বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে এই সড়কে অটোরিকশা চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ সময় অটোরিকশা হেলে যায়। এতে অনেক যাত্রী পড়ে আহত হচ্ছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, আর ছবি তুলে কোনো লাভ নেই। অনেকেই শুধু শুধু ছবি তুলে নিয়ে যান। রাস্তা মেরামতের কোনো কাজ হয় না। এই অবস্থা কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। কিছু ইটের আদলা (ভাঙা ইট) ফেলে রাখলেও তো চলাচল করা যেত।

চাঁদপুর এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ, হাঁটাচলা করা খুব কষ্ট কর। পুরো সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। বৃষ্টি হলেই সড়ক পরিণত হয় ডোবা-নালায়। কাদা পানিতে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে রোগী, নারী ও শিশুরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

জামালপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওয়াজিস রহমান বিশ্বাস বলেন, বালিজুড়ী বাজার-জামথল সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। প্রকল্পটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সড়কটি ২৪ফুট প্রশস্ত করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি ঢাকা থেকে এসে সড়কটি দেখে গেছে। তারা মতামত দিয়েছে সড়কটি ২৪ফুটের স্থলে ১৮ফুট প্রশস্ত করার জন্য। এটি এখনও অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে আপাতত সড়কের গর্তগুলোতে দ্রুত কিছু খোয়া ও বালু ফেলা হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পানি জমে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে এমন অবস্থা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card