ভোটার তালিকা থেকে রোহিঙ্গা ভোটার অপসারণ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং ১১-২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ইসির মাসিক সমন্বয় সভায়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
সভায় জানানো হয়, বিদ্যমান ভোটার তালিকায় যদি কোনো রোহিঙ্গা ভোটারের নাম পাওয়া যায়, তাহলে রেজিস্ট্রেশন অফিসারের তদন্তের ভিত্তিতে সেই নাম কর্তনের সুপারিশ কমিশনে পাঠাতে হবে। রোহিঙ্গা ভোটার ইস্যুতে সরকার ও কমিশন ইতোমধ্যে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে।
এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে বলা হয়, বিদ্যমান এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) পর্যালোচনা করে তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন আকারে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হবে। সংশোধিত এসওপি ও সরকারি ফি নির্ধারণের পর এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত ব্যয় তালিকা জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই জানতে পারে।
নিয়োগ কার্যক্রমের সিদ্ধান্তে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের ১১-২০তম গ্রেডের পদে মৌখিক পরীক্ষা আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জমি অধিগ্রহণ ও নতুন কার্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ওয়্যারহাউজ এবং জেলা-উপজেলায় নিজস্ব কার্যালয় নির্মাণের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ভোটার তথ্য ফরম-২ (২০০৮-২০১২) স্ক্যান ও আপলোডের কাজ দ্রুত শেষ করে হার্ড কপি নিষ্পন্নের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ আসে। মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয় এবং ইসির টেকনিক্যাল টিম যৌথভাবে কার্যপন্থা নির্ধারণ করবে।
সভায় আরও জানানো হয়, ব্যবহার অনুপযোগী মোটরসাইকেলের তথ্য বিআরটিএ’র প্রত্যয়নসহ আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কমিশনে পাঠাতে হবে। এরপর আঞ্চলিক পর্যায়ে কমিটি গঠন করে সেগুলো অকেজো ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 























