০২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাকিবের ‘তান্ডব’ দেখতে গিয়ে বিঘ্ন, ময়মনসিংহের ছায়াবানী সিনেমা হলে ভাংচুর

 

ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী ছায়াবানী সিনেমা হলে শাকিব খান অভিনীত ‘তাণ্ডব’ ছবির প্রদর্শনকালে কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রচারে বিঘ্ন ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ দর্শকরা হলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। শনিবার (৭ জুন) ঈদের দিন বিকেল সাড়ে তিনটার শো চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিনেমা শুরুর কিছু সময় পর হঠাৎ করেই কারিগরি সমস্যার কারণে প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যায়। এতে উত্তেজিত দর্শকরা আসন, চেয়ার, পোস্টার, টিকিট কাউন্টার ও জানালাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত শো বন্ধ রাখা হয় এবং পরে আবার প্রদর্শন শুরু হয়।

 

ময়মনসিংহে একসময় জনপ্রিয় পাঁচটি সিনেমা হল ছিল— অজন্তা, ছায়াবানী, অলকা, পূরবী ও সেনা অডিটোরিয়াম। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ায় একে একে বন্ধ হয়ে যায় অধিকাংশ হল। বর্তমানে পূরবী ও ছায়াবানী চালু থাকলেও পূরবী হল ভেঙে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে ছায়াবানীই এখন একমাত্র সক্রিয় সিনেমা হল হিসেবে টিকে আছে।

 

ঈদের দিন ‘তাণ্ডব’ দেখতে সকাল থেকেই হলের সামনে দর্শকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। প্রায় ৭৫০ আসনবিশিষ্ট এই হলে শো শুরুর আগে থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। শো চলাকালীন সময়ে একাধিক কারিগরি সমস্যা ও অতিরিক্ত দর্শকের চাপ সামাল দিতে ব্যর্থ হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

 

দর্শক আল-আমিন হোসেন বলেন, “শেরপুর থেকে ছবি দেখতে এসেছি। অথচ টিকিট পেতে কষ্ট, ভেতরে পানি জমে থাকা, শো চলাকালীন সময়ে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া— এসব মেনে নেওয়া যায় না।”

 

আরেক দর্শক হাসান জাকির বলেন, “ছবির সময় কখনো সাউন্ড, কখনো ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ টিকিট বিক্রি চলছে অব্যাহতভাবে। এতে দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।”

 

হলের ক্যাশিয়ার আল-আমিন শেখ বলেন, “দর্শকরা হঠাৎ করে ভাঙচুর শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুতই সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও ততক্ষণে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। এমন হলে সিনেমা হল পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়বে।”

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ৩ নম্বর ফাঁড়ির এএসআই মো. রাসেল বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করে। কোনো কারিগরি সমস্যা হতেই পারে, তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।”

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম

ইয়াবার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, ফুলপুরে আটক ১ 

10 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

শাকিবের ‘তান্ডব’ দেখতে গিয়ে বিঘ্ন, ময়মনসিংহের ছায়াবানী সিনেমা হলে ভাংচুর

পোষ্টের সময় : ০১:১৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫

 

ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী ছায়াবানী সিনেমা হলে শাকিব খান অভিনীত ‘তাণ্ডব’ ছবির প্রদর্শনকালে কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রচারে বিঘ্ন ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ দর্শকরা হলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। শনিবার (৭ জুন) ঈদের দিন বিকেল সাড়ে তিনটার শো চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিনেমা শুরুর কিছু সময় পর হঠাৎ করেই কারিগরি সমস্যার কারণে প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যায়। এতে উত্তেজিত দর্শকরা আসন, চেয়ার, পোস্টার, টিকিট কাউন্টার ও জানালাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত শো বন্ধ রাখা হয় এবং পরে আবার প্রদর্শন শুরু হয়।

 

ময়মনসিংহে একসময় জনপ্রিয় পাঁচটি সিনেমা হল ছিল— অজন্তা, ছায়াবানী, অলকা, পূরবী ও সেনা অডিটোরিয়াম। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ায় একে একে বন্ধ হয়ে যায় অধিকাংশ হল। বর্তমানে পূরবী ও ছায়াবানী চালু থাকলেও পূরবী হল ভেঙে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে ছায়াবানীই এখন একমাত্র সক্রিয় সিনেমা হল হিসেবে টিকে আছে।

 

ঈদের দিন ‘তাণ্ডব’ দেখতে সকাল থেকেই হলের সামনে দর্শকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। প্রায় ৭৫০ আসনবিশিষ্ট এই হলে শো শুরুর আগে থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। শো চলাকালীন সময়ে একাধিক কারিগরি সমস্যা ও অতিরিক্ত দর্শকের চাপ সামাল দিতে ব্যর্থ হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

 

দর্শক আল-আমিন হোসেন বলেন, “শেরপুর থেকে ছবি দেখতে এসেছি। অথচ টিকিট পেতে কষ্ট, ভেতরে পানি জমে থাকা, শো চলাকালীন সময়ে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া— এসব মেনে নেওয়া যায় না।”

 

আরেক দর্শক হাসান জাকির বলেন, “ছবির সময় কখনো সাউন্ড, কখনো ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ টিকিট বিক্রি চলছে অব্যাহতভাবে। এতে দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।”

 

হলের ক্যাশিয়ার আল-আমিন শেখ বলেন, “দর্শকরা হঠাৎ করে ভাঙচুর শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুতই সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও ততক্ষণে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। এমন হলে সিনেমা হল পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়বে।”

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ৩ নম্বর ফাঁড়ির এএসআই মো. রাসেল বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করে। কোনো কারিগরি সমস্যা হতেই পারে, তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।”

 

Share this news as a Photo Card