০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

 

দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারের সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা পর্যায়ক্রমে একটি একক কার্ডের আওতায় আনা হবে, যাতে নাগরিকরা এক কার্ডের মাধ্যমেই সব সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য বিশেষ কার্ডসহ বিভিন্ন সেবাকে একত্রিত করে ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে। এসব সুবিধা জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের অনুগ্রহ নয়, বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

 

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষকের কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এর সুফল ইতোমধ্যে কৃষকরা পাচ্ছেন।

 

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানানোয় তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।

 

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং প্রায় আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার করা এবং ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত ও গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহে এসিড–সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পাশে নতুন উদ্যোগ

কেন্দুয়ায় ৭ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক

15 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

পোষ্টের সময় : ০৮:০৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

 

দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারের সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা পর্যায়ক্রমে একটি একক কার্ডের আওতায় আনা হবে, যাতে নাগরিকরা এক কার্ডের মাধ্যমেই সব সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য বিশেষ কার্ডসহ বিভিন্ন সেবাকে একত্রিত করে ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে। এসব সুবিধা জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের অনুগ্রহ নয়, বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

 

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষকের কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এর সুফল ইতোমধ্যে কৃষকরা পাচ্ছেন।

 

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানানোয় তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।

 

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং প্রায় আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার করা এবং ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত ও গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

 

Share this news as a Photo Card