০২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের ৬ মাস, ব্যক্তির বৃত্ত থেকে এখন জনগণের দোয়ারে

বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা দলটি রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনীতি পুনর্গঠন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবি করছে। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগ ঘাটতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

 

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে কৃষি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, প্রথম ছয় মাসকে রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহি এবং জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি তৈরির সময় হিসেবে দেখা হয়েছে।

 

আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে ছয় মাসের অর্জন তুলে ধরার কথা রয়েছে।

 

সরকার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তবে সরকারের সমালোচনাও রয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দেয়। সরকার এর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পাশাপাশি আগের সরকারের আমলের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি, লুটপাট, অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ ও ভুল নীতিকে দায়ী করছে। একই সঙ্গে বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগ না আসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ছয় মাসে সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। তাঁর দাবি, পরবর্তী ছয় মাসে এসব কর্মসূচি আরও জোরালো ও দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন হবে।

 

ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রকে সামনে আনার চেষ্টা

 

সরকারের আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হলো ব্যক্তিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। সরকারি অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি টানানোর প্রচলন বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

 

এর পাশাপাশি ভিআইপি সংস্কৃতি কমানো, প্রটোকল সহজ করা এবং সরকারি ব্যয়ে সংযমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং জ্বালানি, চালক ও বাসভবনের কর্মীদের ব্যয় নিজে বহন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মানুষের দোরগোড়ায় জনকল্যাণ

 

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ, প্রবাসী, প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের সহজ ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উদ্যোগও রয়েছে।

 

দুর্যোগ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, কৃষকদের সহায়তা এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

 

গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ

 

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রসীমায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির আওতায় ২৬টি ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

বিনিয়োগ ও রপ্তানি

 

বিনিয়োগ কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একীভূত সেবা নিশ্চিত করতে বিডা, বেজা ও পিপিপিএকে একীভূত করে একটি একক শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তবে সরকারের প্রথম ছয় মাসে বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ না থাকায় এ খাতকে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

কৃষিতে স্বস্তির বার্তা

 

কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের নথি অনুযায়ী, এতে প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষক ঋণমুক্ত হয়েছেন।

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি গুদামে ২৪ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত থাকার কথা জানিয়েছে সরকার।

 

বাজার নিয়ন্ত্রণে বাজেটের উদ্যোগ

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

 

এ ছাড়া পাচার করে বিদেশে নেওয়া অর্থ ফেরাতে বিভিন্ন দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক আইনি সহায়তা চাওয়ার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

 

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা

 

উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বন্যা ও মরুকরণ প্রতিরোধে পদ্মা ব্যারাজের প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

 

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকেও জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৪ কোটি ঘনমিটার পলি অপসারণ, নদীতীর সংরক্ষণে বাঁধ নির্মাণ এবং প্রায় ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন

 

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে গণভবনকে রূপান্তর করে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তর

 

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, ডিজিটাল ক্লাসরুম, ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং শিক্ষক উপস্থিতি ট্র্যাকিংয়ের উদ্যোগও রয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

 

স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরানোর চেষ্টা

 

স্বাস্থ্য খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখছে সরকার। এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশ নারী রাখার কথা বলা হয়েছে।

 

উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা, ডায়ালাইসিস ইউনিট ও আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন এবং পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলায় কঠোর অবস্থান

 

আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশ সংস্কার, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানকেও সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি

 

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতির পাশাপাশি কৌশলগত ভারসাম্যকে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

 

চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও অবকাঠামো সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীন ও মালয়েশিয়া সফরকেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

২০২৬ সালের ২ জুন নির্বাচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশ আবারও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে আসছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

 

এ ছাড়া আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের বিষয়টিও সরকারের পররাষ্ট্রনীতির নতুন অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

আরও যেসব উদ্যোগ

 

সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধ, কারাগার ও আটককেন্দ্রে মানবাধিকার তদারকিতে নতুন বিভাগ গঠন, নারী শিক্ষার্থীদের সম্মান পর্যায় পর্যন্ত বিনা টিউশন ফি সুবিধা সম্প্রসারণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করপোরেট কর প্রত্যাহার এবং ক্যাডেট কলেজের আদলে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা উন্নয়ন, পুঁজিবাজার সংস্কার, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ এবং খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সম্মানী ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

একযোগে ৬৪ জেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’ আয়োজন, বিচারব্যবস্থাকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে আইনগত সহায়তা ও ডিজিটাল বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদী-খাল পুনঃখননের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।

 

সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা

 

সরকারের প্রথম ছয় মাসের অর্জনের তালিকা দীর্ঘ হলেও এসব উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাবের ওপর।

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর মতে, প্রথম ছয় মাস ছিল ভিত্তি তৈরির সময়। এখন সেই ভিত্তির ওপর দৃশ্যমান ফল দেখানোর পালা। কৃষকের আয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা সহজ করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কার্যকর করাই হবে সরকারের সামনে বড় পরীক্ষা।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। মানবাধিকার, বাক্‌স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত থাকবে এবং জনগণের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে।

 

সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়নে তাই একদিকে রয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের দাবি, অন্যদিকে রয়েছে মূল্যস্ফীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ নানা চ্যালেঞ্জ। আগামী ছয় মাসে এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

সরকারের ৬ মাস, ব্যক্তির বৃত্ত থেকে এখন জনগণের দোয়ারে

কেন্দুয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী

16 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সরকারের ৬ মাস, ব্যক্তির বৃত্ত থেকে এখন জনগণের দোয়ারে

পোষ্টের সময় : ১১:২৯:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা দলটি রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনীতি পুনর্গঠন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবি করছে। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগ ঘাটতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

 

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে কৃষি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, প্রথম ছয় মাসকে রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহি এবং জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি তৈরির সময় হিসেবে দেখা হয়েছে।

 

আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে ছয় মাসের অর্জন তুলে ধরার কথা রয়েছে।

 

সরকার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তবে সরকারের সমালোচনাও রয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দেয়। সরকার এর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পাশাপাশি আগের সরকারের আমলের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি, লুটপাট, অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ ও ভুল নীতিকে দায়ী করছে। একই সঙ্গে বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগ না আসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ছয় মাসে সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। তাঁর দাবি, পরবর্তী ছয় মাসে এসব কর্মসূচি আরও জোরালো ও দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন হবে।

 

ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রকে সামনে আনার চেষ্টা

 

সরকারের আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হলো ব্যক্তিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। সরকারি অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি টানানোর প্রচলন বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

 

এর পাশাপাশি ভিআইপি সংস্কৃতি কমানো, প্রটোকল সহজ করা এবং সরকারি ব্যয়ে সংযমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং জ্বালানি, চালক ও বাসভবনের কর্মীদের ব্যয় নিজে বহন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মানুষের দোরগোড়ায় জনকল্যাণ

 

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ, প্রবাসী, প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের সহজ ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উদ্যোগও রয়েছে।

 

দুর্যোগ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, কৃষকদের সহায়তা এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

 

গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ

 

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রসীমায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির আওতায় ২৬টি ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

বিনিয়োগ ও রপ্তানি

 

বিনিয়োগ কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একীভূত সেবা নিশ্চিত করতে বিডা, বেজা ও পিপিপিএকে একীভূত করে একটি একক শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তবে সরকারের প্রথম ছয় মাসে বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ না থাকায় এ খাতকে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

কৃষিতে স্বস্তির বার্তা

 

কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের নথি অনুযায়ী, এতে প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষক ঋণমুক্ত হয়েছেন।

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি গুদামে ২৪ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত থাকার কথা জানিয়েছে সরকার।

 

বাজার নিয়ন্ত্রণে বাজেটের উদ্যোগ

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

 

এ ছাড়া পাচার করে বিদেশে নেওয়া অর্থ ফেরাতে বিভিন্ন দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক আইনি সহায়তা চাওয়ার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

 

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা

 

উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বন্যা ও মরুকরণ প্রতিরোধে পদ্মা ব্যারাজের প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

 

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকেও জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৪ কোটি ঘনমিটার পলি অপসারণ, নদীতীর সংরক্ষণে বাঁধ নির্মাণ এবং প্রায় ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন

 

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে গণভবনকে রূপান্তর করে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তর

 

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, ডিজিটাল ক্লাসরুম, ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং শিক্ষক উপস্থিতি ট্র্যাকিংয়ের উদ্যোগও রয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

 

স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরানোর চেষ্টা

 

স্বাস্থ্য খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখছে সরকার। এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশ নারী রাখার কথা বলা হয়েছে।

 

উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা, ডায়ালাইসিস ইউনিট ও আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন এবং পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলায় কঠোর অবস্থান

 

আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশ সংস্কার, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানকেও সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি

 

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতির পাশাপাশি কৌশলগত ভারসাম্যকে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

 

চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও অবকাঠামো সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীন ও মালয়েশিয়া সফরকেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

২০২৬ সালের ২ জুন নির্বাচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশ আবারও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে আসছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

 

এ ছাড়া আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের বিষয়টিও সরকারের পররাষ্ট্রনীতির নতুন অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

আরও যেসব উদ্যোগ

 

সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধ, কারাগার ও আটককেন্দ্রে মানবাধিকার তদারকিতে নতুন বিভাগ গঠন, নারী শিক্ষার্থীদের সম্মান পর্যায় পর্যন্ত বিনা টিউশন ফি সুবিধা সম্প্রসারণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করপোরেট কর প্রত্যাহার এবং ক্যাডেট কলেজের আদলে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা উন্নয়ন, পুঁজিবাজার সংস্কার, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ এবং খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সম্মানী ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

একযোগে ৬৪ জেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’ আয়োজন, বিচারব্যবস্থাকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে আইনগত সহায়তা ও ডিজিটাল বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদী-খাল পুনঃখননের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।

 

সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা

 

সরকারের প্রথম ছয় মাসের অর্জনের তালিকা দীর্ঘ হলেও এসব উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাবের ওপর।

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর মতে, প্রথম ছয় মাস ছিল ভিত্তি তৈরির সময়। এখন সেই ভিত্তির ওপর দৃশ্যমান ফল দেখানোর পালা। কৃষকের আয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা সহজ করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কার্যকর করাই হবে সরকারের সামনে বড় পরীক্ষা।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। মানবাধিকার, বাক্‌স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত থাকবে এবং জনগণের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে।

 

সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়নে তাই একদিকে রয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের দাবি, অন্যদিকে রয়েছে মূল্যস্ফীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ নানা চ্যালেঞ্জ। আগামী ছয় মাসে এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

 

Share this news as a Photo Card