০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পিকার না থাকায় নতুন এমপিদের শপথ পড়াবেন কে?

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • পোষ্টের সময় : ১২:২৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০৫ ভিউ :

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন, বিষয়টি দেশের সচেতন নাগরিকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সংবিধানেই বা কী আছে? তবে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী এই জটিলতার সমাধান পাওয়া গেছে।

 

সংসদ ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্পিকার না থাকায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিন।

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্পিকার পদত্যাগ করেন এবং বর্তমানে ডেপুটি স্পিকারও দায়িত্বে নেই। ফলে জাতীয় সংসদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদই এখন শূন্য রয়েছে। এই বাস্তবতায় সংবিধানে নির্ধারিত বিকল্প ব্যবস্থার আওতায় শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

 

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮(১) ও ১৪৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সাধারণত স্পিকার বা স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ না থাকায় কার্যকর হচ্ছে সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ।

 

এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত কেউ শপথ পাঠ না করালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই এমপিদের শপথ পড়াতে পারবেন।

 

এছাড়া সংবিধানের তফসিল-৩ অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়েই দায়িত্বে না থাকলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারেন।

 

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুল রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, সংবিধানে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। এ ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয়ের কোনো সুযোগ নেই। রেওয়াজ অনুযায়ী সিইসিই শপথ পড়াবেন-এটা নিশ্চিত।

 

সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংসদ না থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংবিধানে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সিইসির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ পুরোপুরি বৈধ এবং সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পড়ে।

 

তিনি আরও বলেন, শপথ গ্রহণে বিলম্ব হলে সংসদের বৈধতা ও কার্যক্রম শুরু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

 

আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করতে হয়। সংসদ গঠনের আগে এই শপথ সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক।

 

এদিকে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত সদস্যদের বরণে অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষের প্রস্তুতি ও সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

 

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ফকিরি হালত মানুষকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করে : হাওলাপুরী পীর সাহেব

এ্যানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সালাহউদ্দিন এলজিআরডি মন্ত্রী

13 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

স্পিকার না থাকায় নতুন এমপিদের শপথ পড়াবেন কে?

পোষ্টের সময় : ১২:২৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন, বিষয়টি দেশের সচেতন নাগরিকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সংবিধানেই বা কী আছে? তবে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী এই জটিলতার সমাধান পাওয়া গেছে।

 

সংসদ ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্পিকার না থাকায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিন।

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্পিকার পদত্যাগ করেন এবং বর্তমানে ডেপুটি স্পিকারও দায়িত্বে নেই। ফলে জাতীয় সংসদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদই এখন শূন্য রয়েছে। এই বাস্তবতায় সংবিধানে নির্ধারিত বিকল্প ব্যবস্থার আওতায় শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

 

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮(১) ও ১৪৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সাধারণত স্পিকার বা স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ না থাকায় কার্যকর হচ্ছে সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ।

 

এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত কেউ শপথ পাঠ না করালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই এমপিদের শপথ পড়াতে পারবেন।

 

এছাড়া সংবিধানের তফসিল-৩ অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়েই দায়িত্বে না থাকলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারেন।

 

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুল রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, সংবিধানে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। এ ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয়ের কোনো সুযোগ নেই। রেওয়াজ অনুযায়ী সিইসিই শপথ পড়াবেন-এটা নিশ্চিত।

 

সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংসদ না থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংবিধানে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সিইসির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ পুরোপুরি বৈধ এবং সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পড়ে।

 

তিনি আরও বলেন, শপথ গ্রহণে বিলম্ব হলে সংসদের বৈধতা ও কার্যক্রম শুরু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

 

আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করতে হয়। সংসদ গঠনের আগে এই শপথ সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক।

 

এদিকে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত সদস্যদের বরণে অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষের প্রস্তুতি ও সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

 

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

Share this news as a Photo Card