০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনিয়ম অভিযোগে ইসির আইডিইএ প্রকল্পে ৮০ জন বহিষ্কার

 

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীন আইডিইএ-২—‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের shake-up ঘটেছে। চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানো এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকল্পের মোট ৮০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রকল্পের বর্ধিত সময়েও যাদের পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি—তাদের নামই এই তালিকায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় আইডিইএ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (প্রশাসন) মেজর মাহমুদুল হাসান তালুকদারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রকল্পের বাড়তি মেয়াদে আউটসোর্সিং জনবলের চাকরি নবায়ন বিবেচনায় তাদের বার্ষিক কর্মদক্ষতা, সার্বিক কাজের মান, উপস্থিতি এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সব রেকর্ড পর্যালোচনা করা হয়েছে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে যারা অযোগ্য বা অভিযোগযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন, তাদের চাকরি আর নবায়ন করা হয়নি।

 

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া ৮০ জনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে গাফিলতি, শৃঙ্খলাভঙ্গসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতীতে এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও এবার অনেকের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়াই সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন বহিষ্কৃত কর্মী।

 

এদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বেশিরভাগই ভিত্তিহীন বা অতিরঞ্জিত। কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি অথবা অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা মনে করছেন, হঠাৎ চাকরি হারানোয় তাদের জীবন ও পরিবার গভীর সংকটে পড়বে।

 

তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্বাচন কমিশন ও প্রকল্পের ভাবমূর্তি রক্ষা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল। এজন্য দায়িত্বে নিষ্ঠা ও আচরণগত শৃঙ্খলার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রকল্পের বর্ধিত কার্যপরিধি নির্বিঘ্ন রাখতে অনিয়মে জড়িত বা অভিযোগযুক্ত জনবলকে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সবার রেকর্ড যাচাই করে যথাসম্ভব স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

এদিকে চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মকর্তারা দ্রুত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

ভ্রমণ ও বিদেশযাত্রা সহজ করতে হালুয়াঘাটে আল-এহসান ট্রাভেলসের উদ্বোধন

15 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

অনিয়ম অভিযোগে ইসির আইডিইএ প্রকল্পে ৮০ জন বহিষ্কার

পোষ্টের সময় : ০৬:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

 

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীন আইডিইএ-২—‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের shake-up ঘটেছে। চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানো এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকল্পের মোট ৮০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রকল্পের বর্ধিত সময়েও যাদের পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি—তাদের নামই এই তালিকায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় আইডিইএ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (প্রশাসন) মেজর মাহমুদুল হাসান তালুকদারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রকল্পের বাড়তি মেয়াদে আউটসোর্সিং জনবলের চাকরি নবায়ন বিবেচনায় তাদের বার্ষিক কর্মদক্ষতা, সার্বিক কাজের মান, উপস্থিতি এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সব রেকর্ড পর্যালোচনা করা হয়েছে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে যারা অযোগ্য বা অভিযোগযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন, তাদের চাকরি আর নবায়ন করা হয়নি।

 

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া ৮০ জনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে গাফিলতি, শৃঙ্খলাভঙ্গসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতীতে এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও এবার অনেকের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়াই সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন বহিষ্কৃত কর্মী।

 

এদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বেশিরভাগই ভিত্তিহীন বা অতিরঞ্জিত। কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি অথবা অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা মনে করছেন, হঠাৎ চাকরি হারানোয় তাদের জীবন ও পরিবার গভীর সংকটে পড়বে।

 

তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্বাচন কমিশন ও প্রকল্পের ভাবমূর্তি রক্ষা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল। এজন্য দায়িত্বে নিষ্ঠা ও আচরণগত শৃঙ্খলার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রকল্পের বর্ধিত কার্যপরিধি নির্বিঘ্ন রাখতে অনিয়মে জড়িত বা অভিযোগযুক্ত জনবলকে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সবার রেকর্ড যাচাই করে যথাসম্ভব স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

এদিকে চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মকর্তারা দ্রুত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন।

 

Share this news as a Photo Card