জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে এক অপ্রত্যাশিত বক্তব্যে আলোচনার ঝড় তুললেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তো। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসা বৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ নেতার মুখে ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ উঠে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট প্রাবো পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি, তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টিও অবহেলা করা যাবে না। তিনি বিশ্বাস করেন, আরব ও ইহুদিদের মধ্যে প্রাচীন দ্বন্দ্ব নিরসন করে সহাবস্থান গড়ে তুলতে হবে। তার ভাষায়, ইব্রাহিমীয় বংশধরদের মধ্যে পুনর্মিলনের মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি তার বক্তৃতার শেষ অংশে হিব্রু শব্দ “সালোম” (অর্থাৎ শান্তি) উচ্চারণ করেন, যা শ্রোতাদের নজর কাড়ে। এই পদক্ষেপকে অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষক দেখছেন ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলও এই বক্তব্যে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অবস্থানে “অবাক” হয়েছে। এতদিন দুই দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট—ইসরায়েল যদি ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তারাও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক হবে।
এমন বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন গাজায় চলমান যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে এই ভারসাম্যপূর্ণ মন্তব্য একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল বিরোধে সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টাকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে।
প্রাবো সুবিয়ান্তোর এ বক্তব্যে বোঝা যায়, ইন্দোনেশিয়া কেবল আবেগের জায়গা থেকে নয়, বরং রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বৈশ্বিক শান্তির স্বার্থকে সামনে রেখে অবস্থান নির্ধারণ করছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির দাবি থাকলেও ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তাকে অস্বীকার করা হবে না।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























