বিগত চার বছরের মধ্যে চলতি মৌসুমে ইলিশ আহরণে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার ইলিশ ধরা কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ। জেলেদের ভাষায়—“নদীতে এখন ইলিশ নেই, জাল ফেলে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।”
সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইলিশ আহরণের মৌসুম ধরা হয়। কিন্তু এ বছর ওই তিন মাসে আহরিত হয়েছে মাত্র ৭৯ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন, যেখানে গত বছর ধরা পড়েছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৬৪৭ টন ইলিশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ২৪ হাজার ৩৩৭ টন। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ইলিশ সম্পদের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন।
এ বছর জুলাই ও আগস্টে ইলিশ আহরণ ২০২৪ সালের তুলনায় যথাক্রমে ৩৩ দশমিক ২০ ও ৪৭ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে গেছে। দুই মাস মিলিয়ে প্রায় ৩৯ শতাংশ পতন দেখা দিয়েছে।
প্রতি বছর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা থেকে অমাবস্যা পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকে। চলতি বছর ৪ অক্টোবর শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে ২৬ অক্টোবর। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। তাদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময়ই অনেক মৌসুমি জেলে নিয়ম ভেঙে মাছ ধরে নিয়েছে।
বরিশালের পোর্ট রোডের মাছ ব্যবসায়ী জুয়েল জানান, “আগে নিষেধাজ্ঞা শেষে শত শত মণ ইলিশ বাজারে আসত, এখন ১০ মণও আসে না।” একইভাবে ভোলা থেকে আসা জেলে জালাল মিয়া বলেন, “নদীতে এখন মাছই নেই, অভিযানও ছিল ঢিলেঢালা।”
তবে প্রশাসনের দাবি, এ বছরই ছিল সবচেয়ে কঠোর অভিযান। মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, বরিশাল বিভাগে ২২ দিনে ৩ হাজার ৫৩১টি অভিযান চালানো হয়েছে—যা গত বছরের চেয়ে বেশি। এ সময় ৮৯৩ জেলেকে কারাদণ্ড ও ১ কোটি ৩৮ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ আশা প্রকাশ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে কয়েকদিনের মধ্যে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সাজেদুল হক বলেন, ইলিশের উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে হলে জেলেদের সচেতনতা ও প্রণোদনা একসাথে বাড়াতে হবে—যাতে তারা বুঝতে পারেন মা ইলিশ রক্ষা মানে ভবিষ্যতের বেশি আহরণ।
স্টাফ রিপোর্টার 






















