আজ শনিবার মধ্যরাত থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা নদী-সাগরে জাল নিয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২২ দিনের মা ইলিশ প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় বরিশাল, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলার জেলেদের মধ্যে উৎসবের ছন্দ বিরাজ করছে। এই নিষেধাজ্ঞার সময় তারা ঘরে বসে কাটিয়েছিলেন, ফলে জীবিকা নির্বাহ ও ধার-দেনা পরিশোধের আশা নিয়ে এবার আবার মাছ শিকারের পথে নামছেন।
উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের রামগতি, কমলনগর, সদর ও রায়পুর উপজেলার জেলেরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নৌকা ও জাল সারাইয়ে ব্যস্ত। কেউ নতুন জাল কিনছেন, কেউ পুরোনো জাল মেরামত করছেন। কেউ কেউ নদীতে নামার আগে নৌকা ফুল দিয়ে সাজিয়ে রাখছেন।
কমলনগর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও জাটকা শিকার বন্ধে অভিযান চলবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেছেন, এ বছর ২৩ হাজার টনের বেশি ইলিশ উৎপাদন হবে।
বরিশালে জেলেদের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে প্রশাসনের ওপর অন্তত ১৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়।
২৫ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নদী-সাগরে ইলিশ আহরণে কোনো বিধি-নিষেধ থাকবে না। ১ নভেম্বর থেকে শুরু হবে আট মাসব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ অভিযান, যা আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষকরা নদীতে পর্যবেক্ষণ করে দেখবেন মা ইলিশ কতটুকু প্রজনন করতে পেরেছে। এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আগামীতে ইলিশ উৎপাদনের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
গত পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৩,৩৪৯টি অভিযানে আট টন ৪০৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এক হাজার ২৯৮টি মামলা ও ৩৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৮৮৩ জন জেলেকে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















