গাজায় চলমান সংঘাত নিরসন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন, গাজায় বিশেষ শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠনের জন্য ফ্রান্স বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গাজার মানবিক সংকট দিন দিন গভীরতর হচ্ছে। অবকাঠামো ধ্বংস, খাদ্য সংকট, পানি ও ওষুধের ঘাটতি লাখো মানুষের জীবন বিপন্ন করে তুলেছে। তাই শান্তিরক্ষী বাহিনী সেখানে পাঠানো হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হবে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ। তাদের মতে, নিরপেক্ষ শান্তিরক্ষী বাহিনী থাকলে যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম হবে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘ ইতোমধ্যে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া, ফ্রান্স চাইছে আরব দেশগুলোকেও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব ফ্রান্সের এই প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। তারা মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। অপরদিকে, ইসরায়েল এই প্রস্তাবকে কৌশলগত দিক থেকে মূল্যায়ন করছে। দেশটির কিছু নীতিনির্ধারক বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধানের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো হলে তা নিঃসন্দেহে একটি বড় পদক্ষেপ হবে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর আন্তরিকতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর। তবেই যুদ্ধবিধ্বস্ত এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির সূচনা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























