চীনের সাবেক কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রী তাং রেনজিয়ানকে ঘুষ গ্রহণের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে দেশটির আদালত। তবে এই শাস্তি সরাসরি কার্যকর না করে দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। মামলার শুনানিতে প্রমাণিত হয়, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেছিলেন।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, তাং রেনজিয়ান প্রায় ২৬৮ মিলিয়ন ইউয়ান (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৩০ কোটি) ঘুষ নিয়েছেন। সরকারি পদে থেকে তিনি ব্যবসায়ীদের সুবিধা প্রদান, বিভিন্ন প্রকল্পে বিশেষ সুযোগ করে দেওয়া এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায় করেছিলেন। আদালত এটিকে রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি মারাত্মক বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
চীনে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি দমনে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দেশটিতে দুর্নীতি বিরোধী কর্মসূচি বিশেষভাবে জোরদার হয়েছে। এই অভিযানে ইতোমধ্যে বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং কেউ কেউ আজীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রায় চীনের প্রশাসনে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেয় যে দুর্নীতির জন্য কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে মৃত্যুদণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার অর্থ হলো, যদি তাং রেনজিয়ান এই সময়ে কোনো নতুন অপরাধ না করেন, তবে সাজাটি আজীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হতে পারে। চীনের আইনে এটি একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া, যা গুরুতর অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।
এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, সরকারের কঠোর অবস্থান জনসাধারণের আস্থা বাড়াবে। অন্যদিকে, সমালোচকরা মনে করেন, দুর্নীতির শেকড় সমাজের এত গভীরে প্রোথিত যে শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ড দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবুও তাং রেনজিয়ানের বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করছে, চীন দুর্নীতির বিষয়ে কোনো আপস করতে রাজি নয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























