রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় দুইটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ রোহান ইসলাম (২৩) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার আড়ানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে একটি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, এর আগেও আরেকটি মোটরসাইকেল চুরি করেছিল।
পুলিশ জানায়, রোহান ইসলামের বিরুদ্ধে দুইটি চুরির ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় চুরিকৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার একটি শোরুম থেকে। ওই শোরুমের মালিক সোহাগ আলীকেও এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সোহাগ চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।
এদিকে, রোহানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম মোটরসাইকেলটি চারঘাট উপজেলার বাবুপাড়া এলাকা থেকে চুরি হয়েছিল। পরে সেটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া দুইটি মোটরসাইকেল যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে। বর্তমানে রোহান ও সোহাগকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোহান দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনীতির নামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতা জানান, রোহানের ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এ বিষয়ে তারা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
পুলিশ বলছে, তারা তদন্তের মাধ্যমে আরও চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের সন্ধান করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি সংঘবদ্ধ দল, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে যুক্ত। তদন্ত শেষ হলে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনায় বাঘা উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা।
স্টাফ রিপোর্টার 




















