২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (Peacebuilding Commission–PBC) সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত কমিশনের ব্যুরো নির্বাচনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাঁচ সদস্যের ব্যুরোতে মরক্কো সভাপতি এবং বাংলাদেশসহ জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহ-সভাপতির দায়িত্ব পায়।
পিবিসির ২০তম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে নতুন নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই কমিশন মূলত সংঘাত-পরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে পরামর্শমূলক ভূমিকা পালন করে থাকে। শান্তি বিনির্মাণে সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
শান্তি বিনির্মাণ কমিশন একটি আন্তঃসরকারি উপদেষ্টা সংস্থা, যেখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ ও অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি জাতিসংঘে সর্বাধিক সৈন্য ও অর্থ প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিত মোট ৩১টি রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বহুপাক্ষিক কাঠামো শান্তি রক্ষায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটায়।
২০০৫ সালে কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং অবদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত। এর আগেও বাংলাদেশ ২০১২ ও ২০২২ সালে শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সভাপতি এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে, যা দেশটির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ।
সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির প্রতিনিধি এবং মহাসচিবের পক্ষে চিফ অব স্টাফ উপস্থিত ছিলেন। তারা শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এই দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাত প্রতিরোধ এবং টেকসই উন্নয়নে জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ আগের মতোই দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
স্টাফ রিপোর্টার 























