নভেম্বরে দেশের রাজনৈতিক সহিংসতায় ৯৬টি ঘটনা ঘটেছে, এতে ১২ জন নিহত ও ৮৭৪ জন আহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) বুধবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন বিএনপির অন্তর্কোন্দলে মারা গেছেন। এছাড়া মনোনয়নকেন্দ্রিক সংঘর্ষে সারাদেশে ২৬২ জন আহত হয়েছেন।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৩৩টি ঘটনা সরাসরি বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ঘটেছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ৫২ জন, বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ৪১ জন, বিএনপি-অন্যান্য দলের সংঘর্ষে ১৫৫ জন এবং বিভিন্ন দলের সংঘর্ষে ৯১ জন আহত হয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) অন্তত ১ জন নিহত হয়েছেন।
এইচআরএসএস আরও জানিয়েছে, ২৩টি ঘটনায় ৩৬ জন সাংবাদিককে হয়রানি করা হয়েছে। ২২ জন আহত, ১১ জন হুমকি পেয়েছেন এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুসারে ৭টি মামলায় ২৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া দেশজুড়ে ২০টি গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় ১৬ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ২ জনের মৃত্যু, কারাগারে ৩ জন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ও ৯ জন হাজতির মৃত্যু হয়েছে।
শিশু ও নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। নভেম্বর মাসে ১৭৭ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪৮ জন। ২ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ১০৩ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যেখানে ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
শ্রমিক নির্যাতন ও দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৯০ জন আহত হয়েছেন। সীমান্তে বিএসএফের হামলায় ১ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। কক্সবাজারের টেকনাফে ২৬ জন জেলে আটক হয়েছেন।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে মৃত্যু, রাজনৈতিক উত্তেজনা, নির্বাচনী সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে নিতে পারে। তিনি সব স্তরে আইনশৃঙ্খলা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 






















