০১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা আসছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

 

দেশের বিভিন্ন স্থানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত রেখে যে অবস্থান নিয়েছেন, সেটিকে সরকারি চাকরি বিধিমালা ভঙ্গের সামিল বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ছাত্র–ছাত্রীদের পরীক্ষাকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা শাস্তির মুখোমুখি হবেন।

সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ সতর্কতা উচ্চারণ করেন।

 

অধ্যাপক আবরার বলেন, দেশের বিভিন্ন স্কুলে দেখা গেছে— কোথাও পরীক্ষা চলছে, কোথাও বন্ধ। এই অস্থিরতা শিক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বার্ষিক পরীক্ষা শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়; সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করা শিক্ষকতার নৈতিকতা ও সরকারি আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।

 

তিনি আরও বলেন, নবম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার দাবি কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। চাকরিতে যোগদানের সময়ই শিক্ষকরা জানতেন যে তারা দশম গ্রেডেই থাকবেন। এখন এসে গ্রেড পরিবর্তনের দাবি তোলা মূলত চাকরির শর্ত পুনর্লিখনের মতো, যা আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

তার ভাষায়, “নবম গ্রেডে বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তারা থাকেন। সেখানে যে কেউ দাবি তুললেই ঢুকে পড়তে পারবে— এমন ধারণা ভুল। বিষয়টি আন্তঃমন্ত্রণালয়গত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল।”

 

উপদেষ্টা আরও জানান, সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো— দাবি তুলতে গিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকে ‘দাবি আদায়ের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যত। তাদের পরীক্ষা বন্ধ রেখে চাপ সৃষ্টি করা শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বহীনতার চরম প্রকাশ।”

 

তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিতেই হবে।

 

দেশব্যাপী চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী–অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা উপদেষ্টা নিশ্চিত করেছেন— শিক্ষার্থীদের শিক্ষা–অধিকার বাধাগ্রস্ত হলে সরকার তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহের সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি, প্রভাব পড়েছে শিল্পাঞ্চলেও

ইসলামী আন্দোলনের ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর কমিটি ঘোষণা

29 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

পরীক্ষা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা আসছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

পোষ্টের সময় : ০৬:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

 

দেশের বিভিন্ন স্থানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত রেখে যে অবস্থান নিয়েছেন, সেটিকে সরকারি চাকরি বিধিমালা ভঙ্গের সামিল বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ছাত্র–ছাত্রীদের পরীক্ষাকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা শাস্তির মুখোমুখি হবেন।

সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ সতর্কতা উচ্চারণ করেন।

 

অধ্যাপক আবরার বলেন, দেশের বিভিন্ন স্কুলে দেখা গেছে— কোথাও পরীক্ষা চলছে, কোথাও বন্ধ। এই অস্থিরতা শিক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বার্ষিক পরীক্ষা শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়; সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করা শিক্ষকতার নৈতিকতা ও সরকারি আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।

 

তিনি আরও বলেন, নবম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার দাবি কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। চাকরিতে যোগদানের সময়ই শিক্ষকরা জানতেন যে তারা দশম গ্রেডেই থাকবেন। এখন এসে গ্রেড পরিবর্তনের দাবি তোলা মূলত চাকরির শর্ত পুনর্লিখনের মতো, যা আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

তার ভাষায়, “নবম গ্রেডে বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তারা থাকেন। সেখানে যে কেউ দাবি তুললেই ঢুকে পড়তে পারবে— এমন ধারণা ভুল। বিষয়টি আন্তঃমন্ত্রণালয়গত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল।”

 

উপদেষ্টা আরও জানান, সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো— দাবি তুলতে গিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকে ‘দাবি আদায়ের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যত। তাদের পরীক্ষা বন্ধ রেখে চাপ সৃষ্টি করা শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বহীনতার চরম প্রকাশ।”

 

তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিতেই হবে।

 

দেশব্যাপী চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী–অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা উপদেষ্টা নিশ্চিত করেছেন— শিক্ষার্থীদের শিক্ষা–অধিকার বাধাগ্রস্ত হলে সরকার তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

 

Share this news as a Photo Card