১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবা হারিয়ে টিউশনি করে কলেজে জিপিএ-৫

 

চাঁদপুরের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার শাম্মী প্রমাণ করেছেন—দৃঢ় ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে জীবনের প্রতিকূলতাও জয় করা সম্ভব। মৈশাদী ইউনিয়নের দক্ষিণ হামানকর্দ্দি গ্রামের এই মেধাবী শিক্ষার্থী সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ অর্জন করে কলেজের একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে অসীম সংগ্রামের গল্প।

 

২০২০ সালে এক ভয়াবহ সিএনজি দুর্ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা আমির হোসেন বেপারী মারা যান। পরিবারের আর্থিক ভরসা হারিয়ে সবকিছু ভেঙে পড়লেও, হাল ছাড়েননি সুমাইয়া। সংসারের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিউশন করিয়ে পড়াশোনার খরচ চালাতে থাকেন। বর্তমানে তিনি ১৫ জন শিক্ষার্থীকে পড়িয়ে মাসে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করেন। সেই অর্থেই চলছে তার পড়াশোনা ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা।

 

চাপের মধ্যেও সুমাইয়া কখনোই শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ দেখাননি। বরং কষ্টকে প্রেরণায় রূপ দিয়েছেন। ক্লাসে মনোযোগী থেকেছেন, পরীক্ষায় নিয়মিত ভালো ফল করেছেন। তার সহপাঠীরা যেখানে অতিরিক্ত ক্লাস ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করত, সেখানে সুমাইয়া নিজের প্রচেষ্টা ও আত্মবিশ্বাসেই এগিয়ে গেছেন।

 

শিক্ষকরা বলেন, সুমাইয়া শুধু পড়াশোনায় নয়, নৈতিকতা ও আচরণেও সবার জন্য অনুকরণীয়। তারা বিশ্বাস করেন, এই মেয়েটি একদিন সমাজে বড় অবদান রাখবে।

 

সুমাইয়ার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করা। তিনি ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হতে চান।

 

পরিবারের সদস্যরা বলেন, সুমাইয়ার সাফল্যে তারা গর্বিত, তবে কন্যার জন্য এখন তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া—তার উচ্চশিক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হোক। এলাকার মানুষও তার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এবং তার অধ্যবসায়কে তরুণ সমাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

 

সুমাইয়ার গল্প মনে করিয়ে দেয়—জীবনের দুঃসময়ই মানুষকে সবচেয়ে শক্তিশালী করে তোলে। প্রতিকূলতার মাঝেও যে দৃঢ় সংকল্পে এগিয়ে চলা যায়, তার জীবন্ত প্রমাণ এই তরুণী।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ইরানে রাতভর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

হালুয়াঘাটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

29 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বাবা হারিয়ে টিউশনি করে কলেজে জিপিএ-৫

পোষ্টের সময় : ০১:৫৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

 

চাঁদপুরের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার শাম্মী প্রমাণ করেছেন—দৃঢ় ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে জীবনের প্রতিকূলতাও জয় করা সম্ভব। মৈশাদী ইউনিয়নের দক্ষিণ হামানকর্দ্দি গ্রামের এই মেধাবী শিক্ষার্থী সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ অর্জন করে কলেজের একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে অসীম সংগ্রামের গল্প।

 

২০২০ সালে এক ভয়াবহ সিএনজি দুর্ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা আমির হোসেন বেপারী মারা যান। পরিবারের আর্থিক ভরসা হারিয়ে সবকিছু ভেঙে পড়লেও, হাল ছাড়েননি সুমাইয়া। সংসারের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিউশন করিয়ে পড়াশোনার খরচ চালাতে থাকেন। বর্তমানে তিনি ১৫ জন শিক্ষার্থীকে পড়িয়ে মাসে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করেন। সেই অর্থেই চলছে তার পড়াশোনা ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা।

 

চাপের মধ্যেও সুমাইয়া কখনোই শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ দেখাননি। বরং কষ্টকে প্রেরণায় রূপ দিয়েছেন। ক্লাসে মনোযোগী থেকেছেন, পরীক্ষায় নিয়মিত ভালো ফল করেছেন। তার সহপাঠীরা যেখানে অতিরিক্ত ক্লাস ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করত, সেখানে সুমাইয়া নিজের প্রচেষ্টা ও আত্মবিশ্বাসেই এগিয়ে গেছেন।

 

শিক্ষকরা বলেন, সুমাইয়া শুধু পড়াশোনায় নয়, নৈতিকতা ও আচরণেও সবার জন্য অনুকরণীয়। তারা বিশ্বাস করেন, এই মেয়েটি একদিন সমাজে বড় অবদান রাখবে।

 

সুমাইয়ার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করা। তিনি ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হতে চান।

 

পরিবারের সদস্যরা বলেন, সুমাইয়ার সাফল্যে তারা গর্বিত, তবে কন্যার জন্য এখন তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া—তার উচ্চশিক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হোক। এলাকার মানুষও তার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এবং তার অধ্যবসায়কে তরুণ সমাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

 

সুমাইয়ার গল্প মনে করিয়ে দেয়—জীবনের দুঃসময়ই মানুষকে সবচেয়ে শক্তিশালী করে তোলে। প্রতিকূলতার মাঝেও যে দৃঢ় সংকল্পে এগিয়ে চলা যায়, তার জীবন্ত প্রমাণ এই তরুণী।

 

Share this news as a Photo Card