বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্লক ভবনের আবাসিক হল ও ডাইনিং আবারও সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার জারি করা নতুন নোটিশে জানানো হয়, আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত হল ও ডাইনিংয়ের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একইসঙ্গে ভবনের সপ্তম তলা ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে হাজারো পোস্টগ্রাজুয়েট চিকিৎসা প্রশিক্ষণার্থী বিপাকে পড়েছেন।
হল প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. জামাল উদ্দীন আহমদ জানান, “সংস্কার কাজ চলমান থাকায় এ ব্লক হল এবং ডাইনিং আরও এক সপ্তাহ বন্ধ থাকবে। ভবনের সপ্তম তলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।”
প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকেরা বলছেন, আকস্মিকভাবে হল-ডাইনিং বন্ধ হওয়ায় তাদের আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একজন রেসিডেন্ট চিকিৎসক বলেন, “২৫ নভেম্বর হল বন্ধের নোটিশে বলা হয়, ২ ডিসেম্বরের মধ্যে সংস্কার শেষ হবে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। এখন পুনরায় বন্ধের সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো—এটা সরাসরি হয়রানি।”
আরেক চিকিৎসক জানান, সামনেই রেসিডেন্ট ফেজ-এ, ফেজ-বি এবং এফসিপিএস পরীক্ষার সময়। এর মধ্যে হল বন্ধ থাকায় পড়াশোনা, থাকা ও খাবারের ব্যয়—সবটাই তিনগুণ বেড়ে গেছে। পঞ্চম তলায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সারা দিন হাজারো চিকিৎসক পড়াশোনা করেন। সপ্তম তলার ডাইনিংয়ে তারা কম দামে তিন বেলা খাবার পেতেন, যা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বাইরে থেকে ব্যয়বহুল খাবার কিনতে হচ্ছে।
সপ্তম তলা বন্ধ হলে ডাইনিং কোথায় স্থানান্তর করা হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট বলেন, “নতুন জায়গা চূড়ান্ত হয়নি, তাই আপাতত ডাইনিং খোলা যাচ্ছে না।”
এর আগে ২৪ নভেম্বর ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো’ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের পর প্রশাসন ৭ দিনের জন্য হল খালি করার নির্দেশ দেয়। এরপর ২৬ নভেম্বর চতুর্থ তলায় ডেন্টাল অনুষদের পরিত্যক্ত কক্ষের পাশের একটি এক্সরে রুমে আগুন লাগলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ওইদিন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারও একদিনের জন্য বন্ধ করা হয়।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়—সংস্কারকাজের ধীরগতি ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা। প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা ও পরিকল্পনার অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 























