০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রহ্মপুত্রে ভাসমান অবস্থায় আনন্দ মোহন কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

 

ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ এর তৃতীয় বর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬) এর মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

ছিনতাইকারী কিশোর দলের হামলার পর নিখোঁজ থাকার দুই দিন পর শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নৌকার মাঝিরা নদীর চরে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

 

পুলিশ ও নিহতের সহপাঠীদের সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) জয়নুল আবেদিন উদ্যান থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত তীরে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অন্তত সাত সদস্যের একটি কিশোর ছিনতাইকারী দল তাদের ঘিরে ধরে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা না থাকায় দুই বন্ধুকেই মারধর করা হয়। শাওন প্রতিবাদ করলে তাকে বেদম মারধর করা হয় বলে অভিযোগ । একপর্যায়ে দুই বন্ধু পালানোর চেষ্টা করলে চারজন শাওনের পেছনে এবং তিনজন রিয়াদের পেছনে ধাওয়া করে। রিয়াদ সাঁতরে নদী পার হয়ে আসতে সক্ষম হলেও শাওন নিখোঁজ হয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয়রা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে নদীর তীরে শাওনের ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে তল্লাশি চালালেও তার খোঁজ মেলেনি।

 

পরে শুক্রবার রাতে নদীর চরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা এ একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন চারজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

 

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, লাশ ভাসতে দেখে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর কলেজের সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার অভিযোগ করেন, সন্দেহভাজনদের নাম ঠিকানা পুলিশকে জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, সচেতন মহল জানান, আইন শৃঙ্খলার অবনতির ফলেই আজকে আজকে আমাদের এই দৃশ্য দেখতে হচ্ছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসছিল পুলিশ সদস্যের বাবার লাশ

আওয়ামী বন্দোবস্তের অপরাজনীতি করে জুলাই চেতনা ভূলুণ্ঠিত করছে জামায়াত-এনসিপি: প্রিন্স

31 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ব্রহ্মপুত্রে ভাসমান অবস্থায় আনন্দ মোহন কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

পোষ্টের সময় : ০২:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ এর তৃতীয় বর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬) এর মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

ছিনতাইকারী কিশোর দলের হামলার পর নিখোঁজ থাকার দুই দিন পর শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নৌকার মাঝিরা নদীর চরে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

 

পুলিশ ও নিহতের সহপাঠীদের সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) জয়নুল আবেদিন উদ্যান থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত তীরে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অন্তত সাত সদস্যের একটি কিশোর ছিনতাইকারী দল তাদের ঘিরে ধরে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা না থাকায় দুই বন্ধুকেই মারধর করা হয়। শাওন প্রতিবাদ করলে তাকে বেদম মারধর করা হয় বলে অভিযোগ । একপর্যায়ে দুই বন্ধু পালানোর চেষ্টা করলে চারজন শাওনের পেছনে এবং তিনজন রিয়াদের পেছনে ধাওয়া করে। রিয়াদ সাঁতরে নদী পার হয়ে আসতে সক্ষম হলেও শাওন নিখোঁজ হয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয়রা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে নদীর তীরে শাওনের ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে তল্লাশি চালালেও তার খোঁজ মেলেনি।

 

পরে শুক্রবার রাতে নদীর চরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা এ একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন চারজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

 

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, লাশ ভাসতে দেখে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর কলেজের সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার অভিযোগ করেন, সন্দেহভাজনদের নাম ঠিকানা পুলিশকে জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, সচেতন মহল জানান, আইন শৃঙ্খলার অবনতির ফলেই আজকে আজকে আমাদের এই দৃশ্য দেখতে হচ্ছে।

 

Share this news as a Photo Card