সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের একের পর এক প্রমাণ পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) গঠিত তদন্ত কমিটি। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ১২ মাসেই কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ, বাস না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরিবহন ফি আদায় করে ৭০ লাখ টাকা লোপাট এবং পরীক্ষার আপ্যায়নে একদিনে দেড় লাখ টাকার খাসির মাংসের বিল দেখানোর মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান ও উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম ২১টি অভিযোগ তদন্ত করে প্রায় সবকটি সত্য বলে নিশ্চিত করেছেন। তারা ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করে এই প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্তে দেখা যায়, কলেজের একটি মাইক্রোবাস শহরের ভেতর সীমিত ব্যবহারের পরও মাত্র তিন মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জ্বালানি ও মেরামত খরচ দেখানো হয়েছে, যা আগের অধ্যক্ষের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। এমনকি ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি, গ্যাস ও চালকের বেতন কলেজ তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়েছে।
ভর্তি ফি ও পরীক্ষার তহবিলেও ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষার আয়-ব্যয়ের প্রায় সব খাতেই অস্বাভাবিক ব্যয় দেখানো হয়েছে। একাধিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে আপ্যায়নের নামে একদিনে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ দেখানো হয়েছে, যা তদন্ত কমিটি অযৌক্তিক ও সাজানো বলে উল্লেখ করেছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি আসে পরিবহন খাত থেকে। কলেজে কোনো শিক্ষার্থী পরিবহন না থাকলেও প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে পরিবহন ফি আদায় করে মোট ৭০ লাখ টাকা তোলা হয়। এই অর্থের কোনো বৈধ ব্যয়ের খাত না থাকায় পুরো টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া মাউশির সাবেক মহাপরিচালকের আপ্যায়নের নামে বিভিন্ন বিভাগ থেকে টাকা তুলে সেটিও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন এবং পরবর্তীতে দেখা করার প্রস্তাব দেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান জানান, প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা শিক্ষা মন্ত্রণালয় নেবে।
স্টাফ রিপোর্টার 
























