০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ, উদ্ধার বাংলাদেশিসহ ৩২

 

ভূমধ্যসাগরে নৌযান-ডুবির শিকার হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। ডুবে যাওয়া সেই নৌযানটি থেকে ৩২ জনকে জীবিত এবং ২ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ইতালির কোস্টগার্ড বাহিনী।

 

যে ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তারা সবাই পুরুষ এবং বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক। ইতালির কোস্টগার্ড এবং ইতালীয় এনজিও সংস্থা মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান (এমএসএইচ)- এর বরাত দিয়ে গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

 

জীবিত অবস্থায় উদ্ধার অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইতালির কোস্টগার্ডকে বলেছেন, খুবই কঠিন আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সাগরের বড় বড় ঢেউয়ের মুখে টিকতে না পেরে ডুবে গেছে সেই নৌযানটি। সি-ওয়াচ নামের একটি জার্মান সংস্থা ভূমধ্যসাগরে পর্যবেক্ষন কার্যক্রম ও উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করে। নৌযানটি ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য বিমান পাঠিয়েছিল সি-ওয়াচ।

 

সেই বিমান থেকে তোলা ছবি ও ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, সাগরে উল্টে যাওয়া একটি কাঠের নৌযানের তলদেশের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।

 

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “গতকাল (শনিবার) বিকেলে একটি কাঠের তৈরি নৌযান ভূমধ্যসাগরের এসএআর (সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ) জোন-এলাকায় ডুবে গেছে। এই এলাকাটি লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন। নৌযানটি লিবিয়ার তাজাউর (উপকূলীয় শহর) থেকে রওনা হয়েছিল এবং মোট ১০৫ জন যাত্রী ছিলেন সেটিতে। এই যাত্রীদের মধ্যে শিশু, নারী, পুরুষ— সবাই ছিলেন। নৌযানটি লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় তেলের খনি বৌরি অয়েল ফিল্ড থেকে ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তরপূর্বে ডুবেছে।”

 

ভূমধ্যসাগরের লিবীয় উপকূল থেকে বৌরি অয়েলফিল্ডের দূরত্ব ১২২ কিলোমিটার। ডুবে যাওয়া নৌযানটি থেকে ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় এবং ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই মরদেহ এবং জীবিত যাত্রীদের ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান।

 

এক্সবার্তায় নিখোঁজ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে শোক জানানোর পাশাপশি ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিরাপদ অভিবাসননীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এসএসএইচ।

 

উল্লেখ্য, বৈধ নথি-পত্র ব্যতীত ইউরোপে যেতে আগ্রহী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে রুট হিসেবে ভূমধ্যসাগর বেশ জনপ্রিয়। ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকাকে সংযোগকারী এ সাগরের তুরস্ক, লিবিয়া এবং মরক্কোর উপকূল থেকে নিয়মিতই ইতালি ও গ্রিসের উদ্দেশে যায় অভিবাসনপ্রত্যাশীবাহী নৌযান।

 

তবে ‘জনপ্রিয়’ এই রুটটি একই সঙ্গে ব্যাপকভাবে বিপজ্জনকও। সাগর পাড়ি দিয়ে প্রতি বছরই হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর সলিল সমাধি ঘটে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ৭২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।

 

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

মদনে মসজিদের জমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৬

মমেকের ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগী ১৩০, ঠাঁই মেঝে-বারান্দায়

25 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ, উদ্ধার বাংলাদেশিসহ ৩২

পোষ্টের সময় : ১২:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

 

ভূমধ্যসাগরে নৌযান-ডুবির শিকার হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। ডুবে যাওয়া সেই নৌযানটি থেকে ৩২ জনকে জীবিত এবং ২ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ইতালির কোস্টগার্ড বাহিনী।

 

যে ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তারা সবাই পুরুষ এবং বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক। ইতালির কোস্টগার্ড এবং ইতালীয় এনজিও সংস্থা মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান (এমএসএইচ)- এর বরাত দিয়ে গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

 

জীবিত অবস্থায় উদ্ধার অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইতালির কোস্টগার্ডকে বলেছেন, খুবই কঠিন আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সাগরের বড় বড় ঢেউয়ের মুখে টিকতে না পেরে ডুবে গেছে সেই নৌযানটি। সি-ওয়াচ নামের একটি জার্মান সংস্থা ভূমধ্যসাগরে পর্যবেক্ষন কার্যক্রম ও উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করে। নৌযানটি ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য বিমান পাঠিয়েছিল সি-ওয়াচ।

 

সেই বিমান থেকে তোলা ছবি ও ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, সাগরে উল্টে যাওয়া একটি কাঠের নৌযানের তলদেশের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।

 

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “গতকাল (শনিবার) বিকেলে একটি কাঠের তৈরি নৌযান ভূমধ্যসাগরের এসএআর (সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ) জোন-এলাকায় ডুবে গেছে। এই এলাকাটি লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন। নৌযানটি লিবিয়ার তাজাউর (উপকূলীয় শহর) থেকে রওনা হয়েছিল এবং মোট ১০৫ জন যাত্রী ছিলেন সেটিতে। এই যাত্রীদের মধ্যে শিশু, নারী, পুরুষ— সবাই ছিলেন। নৌযানটি লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় তেলের খনি বৌরি অয়েল ফিল্ড থেকে ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তরপূর্বে ডুবেছে।”

 

ভূমধ্যসাগরের লিবীয় উপকূল থেকে বৌরি অয়েলফিল্ডের দূরত্ব ১২২ কিলোমিটার। ডুবে যাওয়া নৌযানটি থেকে ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় এবং ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই মরদেহ এবং জীবিত যাত্রীদের ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান।

 

এক্সবার্তায় নিখোঁজ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে শোক জানানোর পাশাপশি ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিরাপদ অভিবাসননীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এসএসএইচ।

 

উল্লেখ্য, বৈধ নথি-পত্র ব্যতীত ইউরোপে যেতে আগ্রহী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে রুট হিসেবে ভূমধ্যসাগর বেশ জনপ্রিয়। ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকাকে সংযোগকারী এ সাগরের তুরস্ক, লিবিয়া এবং মরক্কোর উপকূল থেকে নিয়মিতই ইতালি ও গ্রিসের উদ্দেশে যায় অভিবাসনপ্রত্যাশীবাহী নৌযান।

 

তবে ‘জনপ্রিয়’ এই রুটটি একই সঙ্গে ব্যাপকভাবে বিপজ্জনকও। সাগর পাড়ি দিয়ে প্রতি বছরই হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর সলিল সমাধি ঘটে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ৭২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।

 

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

 

Share this news as a Photo Card