বাংলাদেশে পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে একটি স্বতন্ত্র, জবাবদিহিমূলক এবং আধুনিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর সংশোধিত খসড়া নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে পুনরায় আলোচনা শেষে এটির চূড়ান্ত রূপ প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই কাঠামো পুলিশকে আরও পেশাদার, স্বাধীন ও জনবান্ধব করবে।
নতুন খসড়ায় যে কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে, সেটিকে একটি শক্তিশালী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে। কমিশন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অধিকার ও ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা পাবে এবং ঢাকায় প্রধান কার্যালয়সহ প্রয়োজন অনুসারে বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা স্থাপন করতে পারবে।
কমিশনের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন আপিল বা হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে থাকবেন গ্রেড–১ মর্যাদাপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, প্রাসঙ্গিক বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপিকে করা হবে সদস্যসচিব। পাশাপাশি অন্তত দুইজন নারী সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পূর্বের খসড়ায় সরকারদলীয় ও বিরোধী দলের দুইজন সংসদ সদস্যকে সদস্য রাখার প্রস্তাব থাকলেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এড়াতে সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইজিপি নিয়োগের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কমিশন সততা, দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনজন কর্মকর্তার একটি প্যানেল সরকারকে সুপারিশ করবে। খসড়ায় বর্ণিত হয়েছে, কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি, বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে। সাত সদস্যের এই বাছাই কমিটিতে বিচারপতি, মানবাধিকার কমিশন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পিএসসির প্রতিনিধি থাকবেন।
কমিশনের কার্যক্রম হবে সভাভিত্তিক, এবং সিদ্ধান্ত হবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে। কমিশন পুলিশি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা দেবে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের সংক্ষোভ নিরসন এবং নাগরিক অভিযোগ তদন্তে পৃথক কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কাঠামো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও পেশাদার পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার 























