সারাদেশে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। উত্তরের হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা আর সূর্যহীন দীর্ঘ সকাল জনজীবনকে করে তুলেছে স্থবির। দিনের আলো মিললেও শীতের দাপট কমছে না। কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো, যাদের জীবনের সঙ্গে প্রতিদিনের সংগ্রামই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালক ও ছিন্নমূল মানুষ। অনেকেরই নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র কিংবা নিরাপদ আশ্রয়। ফুটপাতে, খোলা আকাশের নিচে কিংবা অস্থায়ী ঘরে রাত কাটানো এসব মানুষের জন্য শীত যেন নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে অসুস্থতার হার, ভিড় বাড়ছে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে।
গ্রামাঞ্চলে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, শহরে কমে গেছে কর্মসংস্থান। শীতের কারণে দৈনন্দিন আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ায় নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাপন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে শিশুদের কাজে পাঠাতে কিংবা ন্যূনতম চাহিদা থেকেও বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারের, সমাজের সচেতন ও সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। একটি কম্বল, একটি উষ্ণ পোশাক কিংবা সামান্য সহযোগিতাই পারে কোনো অসহায় মানুষের রাতটুকু নিরাপদ করতে। মানবিকতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই পারে এই দুর্যোগকে মোকাবিলায় শক্তি জোগাতে।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারিভাবে, ব্যক্তি উদ্যোগে, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। প্রয়োজন সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ, যাতে শীতের প্রকোপ থাকা পর্যন্ত শীতার্ত মানুষের পাশে থাকা যায়।
শীতের এই কঠিন সময়ে আসুন, আমরা সবাই মানবতার পাশে দাঁড়াই। একজন মানুষের উষ্ণতা আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে, এই বিশ্বাস থেকেই শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হোক আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
লেখক : শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত, গণমাধ্যমকর্মী।
শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত 



















