১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক নিবন্ধন : সময়ের দাবি, তবে…

 

গুরু নির্ভর পেশা সাংবাদিকতা, সাংবাদিক তৈরি করা যায়না- যুগে যুগে সময়ে সময়ে সময়ের প্রয়োজনে সাংবাদিকরা জন্ম নেয়। তারা কোনো কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নয় বরং ইতিহাসের গর্ভ থেকে উঠে আসা একেকজন অবাধ্য দ্রোহী। লুইজি পিরানদেল্লোর নাটকের চরিত্রের মতো তারা যেন হঠাৎ করেই ইতিহাসের মঞ্চে আবির্ভূত হয়, সমাজকে তার নিজের আসল মুখচ্ছবি দেখাতে। কিন্তু আজকের পচাগলা সময়ে আমরা চারপাশে কী দেখছি? চারদিকে এক অদ্ভুত ও কুৎসিত অন্ধকার। হাতের মুঠোয় একটা সস্তা স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের ডেটা প্যাক থাকলেই রাতারাতি নিজেকে ‘সাংবাদিক’ বলে জাহির করার এক আত্মঘাতী, উন্মত্ত মহোৎসব চলছে।

 

হাল সময়ে সাংবাদিকতার নামে মোবাইল ফোন হাতে যাদের অলিতে-গলিতে, চায়ের দোকানে কিংবা দুর্ঘটনার ভিড়ে দেখা যায়, তাদেরকে ‘মোজো সাংবাদিক’ বা মোবাইল জার্নালিস্ট আখ্যা দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে মূলধারার সাংবাদিক হিসেবে হালাল করার এক বিপজ্জনক অপচেষ্টা চলছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে স্পষ্টাক্ষরে, কোনো রকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব না রেখে বলতে চাই- নিশ্চিতভাবেই তারা ‘সাংবাদিক’ নন। সাংবাদিকতা কোনো যান্ত্রিক কসরত বা সে্রফ বোতাম টেপার চাতুর্য নয়, এটি একটি সুদীর্ঘ সাধনা, একটি আজীবন লালিত আদর্শিক তাড়না। বর্তমানের এই নৈরাজ্যিক ও বিশৃঙ্খল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষাগত যোগ্যতার একটা ন্যূনতম মাপকাঠির প্রয়োজন আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই নির্মম পটভূমিতেই ‘সাংবাদিক নিবন্ধন’ বিষয়টি আজ সময়ের তীব্র ও অলঙ্ঘনীয় দাবি হিসেবে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে এই দাবির সমান্তরালে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কিছু গভীর ক্ষত, সংশয় ও জটিল সমীকরণ- যা নির্মোহভাবে উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি।

 

একদা যে পেশা ছিল সমাজের বাতিঘর, শোষিতের শেষ আশ্রয়স্থল, আজ তা এক শ্রেণির অপেশাদার, সুবিধাবাদী, চাঁদাবাজ ও ব্ল্যাকমেইলারদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে, মফস্বলে, এমনকি খোদ রাজধানীর রাজপথেও ‘সাংবাদিক’ পরিচয়টি আজ শ্রদ্ধার চেয়ে ভয়ের এবং আস্থার চেয়ে সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথাকথিত ‘মোজো সাংবাদিকতা’র নামে ব্যক্তিচরিত্র হনন, ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ ও কতিপয় পোর্টালের মাধ্যমে দিনরাত গুজব ছড়ানো এবং হলুদ সাংবাদিকতার যে নগ্ন বিস্তার আমরা দেখছি, তা রুখতে একটি রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

 

প্রকৃত সাংবাদিকরা যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, খেয়ে না-খেয়ে, বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সত্যের সন্ধান করেন, তাদের মর্যাদা আজ ভূলুণ্ঠিত। নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে আসল এবং নকলের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন রেখা টানা আজ সময়ের দাবি। একজন চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা আইনজীবীর যেমন একটি নির্দিষ্ট একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও লাইসেন্স লাগে, সাংবাদিকতায়ও ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা উচিত। ভাষা, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না থাকলে সমাজের জটিল ক্ষত নিরূপণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অবাধ স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা বা লম্পট্য চলতে পারে না। নিবন্ধিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সাংবাদিকদের একটি নির্দিষ্ট জাতীয় আচরণবিধির (Code of Conduct) আওতায় আনা সম্ভব হবে- যা সাধারণ মানুষকে মিডিয়া ট্রায়াল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের হাত থেকে রক্ষা করবে।

 

সঠিক উপায়ে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত এবং সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত নিরপেক্ষভাবে যদি সাংবাদিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তবে এর সুফল হবে সুদূরপ্রসারী; মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ও সৎ সংবাদকর্মীরা প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবেন। পরিচয়পত্র বা অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের অপব্যবহার কমলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের কাছে সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়বে। নিবন্ধিত সাংবাদিকদের একটি জাতীয় ডেটাবেজ থাকলে মিডিয়া কর্পোরেট বা মালিকপক্ষের পক্ষে সাংবাদিকদের হুট করে ছাঁটাই করা বা বছরের পর বছর বকেয়া বেতন না দিয়ে পার পাওয়া কঠিন হবে। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন তখন আইনি বাধ্যবাধকতায় রূপ নেবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া ও উসকানিমূলক খবরের দৌরাত্ম্য নিমেষেই কমে যাবে। সাধারণ মানুষ সহজে জানতে পারবে কোন উৎসটি দায়িত্বশীল এবং কোনটি সমাজের জন্য বিষাক্ত।

 

যে কোনো ভালো উদ্যোগের পেছনেই আমাদের এই উপমহাদেশে থাকে ক্ষমতার লোভ আর অপব্যবহারের কালো কুৎসিত ছায়া। ‘তবে…’ শব্দের ভেতরের মূল আশঙ্কাটি এখানেই লুকিয়ে আছে। নিবন্ধনের ধারণাটি তাত্ত্বিকভাবে যতটা চমৎকার ও সুরম্য, প্রয়োগের ক্ষেত্রে ততটাই বিপজ্জনক ও নিবর্তনমূলক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সরকার বা অন্ধ আমলাতন্ত্র যদি এই নিবন্ধনের চাবিকাঠি নিজের হাতে নেয়, তবে তা ভিন্নমত দমনের সবচেয়ে বড় মারণাসে্ত্র পরিণত হবে। সরকারের সমালোচক, প্রগতিশীল ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ‘নিবন্ধন’ বাতিল বা নবায়ন না করার ভয় দেখিয়ে গণমাধ্যমকে পুরোপুরি গৃহপালিত বা তোষামোদকারী সংস্থায় পরিণত করার আশঙ্কা প্রবল। সাংবাদিকতা কোনো লাইসেন্সধারী ব্যবসা বা ঠিকাদারি নয়। এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, বিবেক ও মুক্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। নিবন্ধনের নামে যদি কঠোর সেন্সরশিপ বা আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য তৈরি করা হয়, তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এ দেশে চিরতরে হারিয়ে যাবে।

 

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আমাদের মুদ্রার অপর পিঠটিও দেখতে হবে। বাস্তবতার রূঢ় জমিনে দাঁড়িয়ে সত্য উচ্চারণ করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই তীব্র জোয়ারে, মোবাইল হাতে ঘুরে বেড়ানো এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে ‘সাংবাদিক’ হিসেবে অস্বীকার করারও সুযোগ কিন্তু আমাদের নেই। আধুনিক বিশ্বে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা নাগরিক সাংবাদিকতা আজ একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। মূলধারার গণমাধ্যম যখন করপোরেট স্বার্থে কিংবা ভয়ের সংস্কৃতিতে মুখ বন্ধ রাখে, তখন অনেক সময় এই মোবাইল হাতে থাকা সাধারণ মানুষই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্যায়, নিপীড়ন কিংবা প্রশাসনের দুর্নীতির চিত্র ক্যামেরাবন্দী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তাদের এই তাৎক্ষণিক প্রচার অনেক বড় বড় অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করেছে। তাই তাদেরকে সমাজ থেকে একেবারে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই।

 

তবে সমাধান হলো- তাদেরকে কোনোভাবেই মূলধারার, প্রাতিষ্ঠানিক ‘সাংবাদিক’ হিসেবে স্বীকৃতি বা নিবন্ধন দেওয়া যাবে না। তাদের জন্য প্রয়োজন সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম এবং আলাদা নাম। তাদেরকে ‘নাগরিক তথ্যদাতা’, ‘সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ বা ‘নাগরিক সংবাদকর্মী’ (Citizen Reporer) হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। রাষ্ট্র বা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তাদের জন্য আলাদা একটি নীতিমালার আওতাধীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ফোরাম থাকতে পারে। এর ফলে তারা তথ্যের অবাধ প্রবাহে অবদান রাখতে পারবে, কিন্তু মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকতার পবিত্রতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সাথে তাদের গুলিয়ে ফেলে ‘সাংবাদিক’ তকমা হালাল করার আত্মঘাতী অপচেষ্টা বন্ধ হবে।

 

বর্তমানের সবচেয়ে বড় সংকট হলো- বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, যে কোনো নিয়ন্ত্রণকারী বা তদারকি সংস্থাই শেষ পর্যন্ত নগ্ন রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির শিকার হয়। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত বোর্ডের মাধ্যমে এই নিবন্ধন দেওয়া হয়, তবে প্রকৃত পেশাদার, সৎ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকরা ছিটকে পড়বেন। আর ক্ষমতাসীন দলের তল্পিবাহক, চাটুকার ও পাতিমাস্তানেরা রাতারাতি ‘স্বীকৃত সাংবাদিক’ বনে গিয়ে কার্ড ঝুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াবে। প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন, ব্যাকরণহীন একঝাঁক মানুষকে যদি সে্রফ সস্তা ভিউ ও জনপ্রিয়তার কারণে নিবন্ধনের আওতায় এনে মূলধারার সাংবাদিক হিসেবে ‘হালাল’ করা হয়- তবে তা হবে এ দেশের সাংবাদিকতার কফিনে শেষ পেরেক।

 

এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের পথ কিন্তু সুদূর পরাহত নয়। রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে, নিয়ন্ত্রণ বা দমন নয়, প্রয়োজন সুশৃঙ্খল, প্রাজ্ঞ ও আধুনিক সমন্বয়। যেমন- ১. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মিডিয়া কমিশন গঠন: সাংবাদিকদের নিবন্ধন বা তদারকির দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সরকারি আমলাদের অধীনে থাকা চলবে না। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী ও পুনর্গঠন করে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও স্বাধীন ‘জাতীয় মিডিয়া কমিশন’ গঠন করতে হবে। যেখানে বিচারকের আসনে থাকবেন প্রবীণ সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞানী ও আইনজ্ঞরা- কোনো দলীয় আমলা বা সক্রিয় রাজনীতিবিদ নয়। ২. শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা: মূলধারার সাংবাদিকতার নিবন্ধন পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং স্বীকৃত কোনো গণমাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শুধু ‘মোবাইল, ক্যামেরা আর ইন্টারনেট’ থাকলেই কাউকে সাংবাদিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না। ৩. অপরাধের বিচার ও আচরণবিধি: কোনো নিবন্ধিত সংবাদকর্মী নৈতিক স্খলন বা অপরাধ করলে তার বিচার প্রেস কাউন্সিল বা প্রচলিত আইনেই হবে, কিন্তু তার জন্য ঢালাওভাবে পুরো সাংবাদিক সমাজকে লাইসেন্সিং-এর শিকলে বাঁধা যাবে না। একই সাথে মোজো বা নাগরিক সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্মকেও একটি সুনির্দিষ্ট সাইবার আচরণবিধির আওতায় আনতে হবে- যেন তারা তথ্যের নামে গুজব ছড়াতে না পারে।

 

সাংবাদিকরা চিরকাল ক্ষমতার অন্ধ দম্ভ ও অশিক্ষার বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। আমাদেরও ভাবতে হবে- সাংবাদিকতা কোনো তৈলাক্ত বাঁশ নয় যে, যোগ্যতা ছাড়া যে কেউ এসে তা বেয়ে ওপরে উঠে যাবে। সাংবাদিকতা হলো তপ্ত অঙ্গার- যা বুকে ধারণ করতে প্রজ্ঞা, সততা, নিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়। সাংবাদিকদের ডেটাবেজ বা নিবন্ধন অবশ্যই সময়ের দাবি, তবে তা যেন কোনোভাবেই মুক্ত গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার ‘কালো আইন’ বা স্বৈরাচারী ‘লাইসেন্স রাজ’-এ পরিণত না হয়। রাষ্ট্র, সমাজ এবং মূলধারার সাংবাদিক নেতৃত্বকে এখনই বসে এই আত্মঘাতী ‘মোজো’ সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। একই সাথে মোজোদের একটি সুনির্দিষ্ট ও ভিন্ন আইডেন্টিটির ফ্রেমে বেঁধে, মূলধারার সাংবাদিকতার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও দায়বদ্ধ গণমাধ্যমের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায়, ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের আগামি প্রজন্মের কাছে আসামির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে- যার কোনো ক্ষমা নেই।

 

লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

ই-মেইলঃ bulbulmullick@gmail.com

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

বকশীগঞ্জে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোরাদুজ্জামান মুরাদের লিফলেট বিতরণ 

গুগলে ‘চোরের দল’ লিখলেই আসছে আর্জেন্টিনার নাম, ঘটনা কি

14 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সাংবাদিক নিবন্ধন : সময়ের দাবি, তবে…

পোষ্টের সময় : ০৩:২০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

 

গুরু নির্ভর পেশা সাংবাদিকতা, সাংবাদিক তৈরি করা যায়না- যুগে যুগে সময়ে সময়ে সময়ের প্রয়োজনে সাংবাদিকরা জন্ম নেয়। তারা কোনো কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নয় বরং ইতিহাসের গর্ভ থেকে উঠে আসা একেকজন অবাধ্য দ্রোহী। লুইজি পিরানদেল্লোর নাটকের চরিত্রের মতো তারা যেন হঠাৎ করেই ইতিহাসের মঞ্চে আবির্ভূত হয়, সমাজকে তার নিজের আসল মুখচ্ছবি দেখাতে। কিন্তু আজকের পচাগলা সময়ে আমরা চারপাশে কী দেখছি? চারদিকে এক অদ্ভুত ও কুৎসিত অন্ধকার। হাতের মুঠোয় একটা সস্তা স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের ডেটা প্যাক থাকলেই রাতারাতি নিজেকে ‘সাংবাদিক’ বলে জাহির করার এক আত্মঘাতী, উন্মত্ত মহোৎসব চলছে।

 

হাল সময়ে সাংবাদিকতার নামে মোবাইল ফোন হাতে যাদের অলিতে-গলিতে, চায়ের দোকানে কিংবা দুর্ঘটনার ভিড়ে দেখা যায়, তাদেরকে ‘মোজো সাংবাদিক’ বা মোবাইল জার্নালিস্ট আখ্যা দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে মূলধারার সাংবাদিক হিসেবে হালাল করার এক বিপজ্জনক অপচেষ্টা চলছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে স্পষ্টাক্ষরে, কোনো রকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব না রেখে বলতে চাই- নিশ্চিতভাবেই তারা ‘সাংবাদিক’ নন। সাংবাদিকতা কোনো যান্ত্রিক কসরত বা সে্রফ বোতাম টেপার চাতুর্য নয়, এটি একটি সুদীর্ঘ সাধনা, একটি আজীবন লালিত আদর্শিক তাড়না। বর্তমানের এই নৈরাজ্যিক ও বিশৃঙ্খল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষাগত যোগ্যতার একটা ন্যূনতম মাপকাঠির প্রয়োজন আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই নির্মম পটভূমিতেই ‘সাংবাদিক নিবন্ধন’ বিষয়টি আজ সময়ের তীব্র ও অলঙ্ঘনীয় দাবি হিসেবে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে এই দাবির সমান্তরালে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কিছু গভীর ক্ষত, সংশয় ও জটিল সমীকরণ- যা নির্মোহভাবে উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি।

 

একদা যে পেশা ছিল সমাজের বাতিঘর, শোষিতের শেষ আশ্রয়স্থল, আজ তা এক শ্রেণির অপেশাদার, সুবিধাবাদী, চাঁদাবাজ ও ব্ল্যাকমেইলারদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে, মফস্বলে, এমনকি খোদ রাজধানীর রাজপথেও ‘সাংবাদিক’ পরিচয়টি আজ শ্রদ্ধার চেয়ে ভয়ের এবং আস্থার চেয়ে সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথাকথিত ‘মোজো সাংবাদিকতা’র নামে ব্যক্তিচরিত্র হনন, ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ ও কতিপয় পোর্টালের মাধ্যমে দিনরাত গুজব ছড়ানো এবং হলুদ সাংবাদিকতার যে নগ্ন বিস্তার আমরা দেখছি, তা রুখতে একটি রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

 

প্রকৃত সাংবাদিকরা যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, খেয়ে না-খেয়ে, বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সত্যের সন্ধান করেন, তাদের মর্যাদা আজ ভূলুণ্ঠিত। নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে আসল এবং নকলের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন রেখা টানা আজ সময়ের দাবি। একজন চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা আইনজীবীর যেমন একটি নির্দিষ্ট একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও লাইসেন্স লাগে, সাংবাদিকতায়ও ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা উচিত। ভাষা, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না থাকলে সমাজের জটিল ক্ষত নিরূপণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অবাধ স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা বা লম্পট্য চলতে পারে না। নিবন্ধিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সাংবাদিকদের একটি নির্দিষ্ট জাতীয় আচরণবিধির (Code of Conduct) আওতায় আনা সম্ভব হবে- যা সাধারণ মানুষকে মিডিয়া ট্রায়াল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের হাত থেকে রক্ষা করবে।

 

সঠিক উপায়ে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত এবং সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত নিরপেক্ষভাবে যদি সাংবাদিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তবে এর সুফল হবে সুদূরপ্রসারী; মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ও সৎ সংবাদকর্মীরা প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবেন। পরিচয়পত্র বা অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের অপব্যবহার কমলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের কাছে সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়বে। নিবন্ধিত সাংবাদিকদের একটি জাতীয় ডেটাবেজ থাকলে মিডিয়া কর্পোরেট বা মালিকপক্ষের পক্ষে সাংবাদিকদের হুট করে ছাঁটাই করা বা বছরের পর বছর বকেয়া বেতন না দিয়ে পার পাওয়া কঠিন হবে। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন তখন আইনি বাধ্যবাধকতায় রূপ নেবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া ও উসকানিমূলক খবরের দৌরাত্ম্য নিমেষেই কমে যাবে। সাধারণ মানুষ সহজে জানতে পারবে কোন উৎসটি দায়িত্বশীল এবং কোনটি সমাজের জন্য বিষাক্ত।

 

যে কোনো ভালো উদ্যোগের পেছনেই আমাদের এই উপমহাদেশে থাকে ক্ষমতার লোভ আর অপব্যবহারের কালো কুৎসিত ছায়া। ‘তবে…’ শব্দের ভেতরের মূল আশঙ্কাটি এখানেই লুকিয়ে আছে। নিবন্ধনের ধারণাটি তাত্ত্বিকভাবে যতটা চমৎকার ও সুরম্য, প্রয়োগের ক্ষেত্রে ততটাই বিপজ্জনক ও নিবর্তনমূলক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সরকার বা অন্ধ আমলাতন্ত্র যদি এই নিবন্ধনের চাবিকাঠি নিজের হাতে নেয়, তবে তা ভিন্নমত দমনের সবচেয়ে বড় মারণাসে্ত্র পরিণত হবে। সরকারের সমালোচক, প্রগতিশীল ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ‘নিবন্ধন’ বাতিল বা নবায়ন না করার ভয় দেখিয়ে গণমাধ্যমকে পুরোপুরি গৃহপালিত বা তোষামোদকারী সংস্থায় পরিণত করার আশঙ্কা প্রবল। সাংবাদিকতা কোনো লাইসেন্সধারী ব্যবসা বা ঠিকাদারি নয়। এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, বিবেক ও মুক্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। নিবন্ধনের নামে যদি কঠোর সেন্সরশিপ বা আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য তৈরি করা হয়, তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এ দেশে চিরতরে হারিয়ে যাবে।

 

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আমাদের মুদ্রার অপর পিঠটিও দেখতে হবে। বাস্তবতার রূঢ় জমিনে দাঁড়িয়ে সত্য উচ্চারণ করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই তীব্র জোয়ারে, মোবাইল হাতে ঘুরে বেড়ানো এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে ‘সাংবাদিক’ হিসেবে অস্বীকার করারও সুযোগ কিন্তু আমাদের নেই। আধুনিক বিশ্বে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা নাগরিক সাংবাদিকতা আজ একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। মূলধারার গণমাধ্যম যখন করপোরেট স্বার্থে কিংবা ভয়ের সংস্কৃতিতে মুখ বন্ধ রাখে, তখন অনেক সময় এই মোবাইল হাতে থাকা সাধারণ মানুষই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্যায়, নিপীড়ন কিংবা প্রশাসনের দুর্নীতির চিত্র ক্যামেরাবন্দী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তাদের এই তাৎক্ষণিক প্রচার অনেক বড় বড় অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করেছে। তাই তাদেরকে সমাজ থেকে একেবারে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই।

 

তবে সমাধান হলো- তাদেরকে কোনোভাবেই মূলধারার, প্রাতিষ্ঠানিক ‘সাংবাদিক’ হিসেবে স্বীকৃতি বা নিবন্ধন দেওয়া যাবে না। তাদের জন্য প্রয়োজন সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম এবং আলাদা নাম। তাদেরকে ‘নাগরিক তথ্যদাতা’, ‘সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ বা ‘নাগরিক সংবাদকর্মী’ (Citizen Reporer) হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। রাষ্ট্র বা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তাদের জন্য আলাদা একটি নীতিমালার আওতাধীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ফোরাম থাকতে পারে। এর ফলে তারা তথ্যের অবাধ প্রবাহে অবদান রাখতে পারবে, কিন্তু মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকতার পবিত্রতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সাথে তাদের গুলিয়ে ফেলে ‘সাংবাদিক’ তকমা হালাল করার আত্মঘাতী অপচেষ্টা বন্ধ হবে।

 

বর্তমানের সবচেয়ে বড় সংকট হলো- বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, যে কোনো নিয়ন্ত্রণকারী বা তদারকি সংস্থাই শেষ পর্যন্ত নগ্ন রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির শিকার হয়। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত বোর্ডের মাধ্যমে এই নিবন্ধন দেওয়া হয়, তবে প্রকৃত পেশাদার, সৎ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকরা ছিটকে পড়বেন। আর ক্ষমতাসীন দলের তল্পিবাহক, চাটুকার ও পাতিমাস্তানেরা রাতারাতি ‘স্বীকৃত সাংবাদিক’ বনে গিয়ে কার্ড ঝুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াবে। প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন, ব্যাকরণহীন একঝাঁক মানুষকে যদি সে্রফ সস্তা ভিউ ও জনপ্রিয়তার কারণে নিবন্ধনের আওতায় এনে মূলধারার সাংবাদিক হিসেবে ‘হালাল’ করা হয়- তবে তা হবে এ দেশের সাংবাদিকতার কফিনে শেষ পেরেক।

 

এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের পথ কিন্তু সুদূর পরাহত নয়। রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে, নিয়ন্ত্রণ বা দমন নয়, প্রয়োজন সুশৃঙ্খল, প্রাজ্ঞ ও আধুনিক সমন্বয়। যেমন- ১. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মিডিয়া কমিশন গঠন: সাংবাদিকদের নিবন্ধন বা তদারকির দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সরকারি আমলাদের অধীনে থাকা চলবে না। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী ও পুনর্গঠন করে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও স্বাধীন ‘জাতীয় মিডিয়া কমিশন’ গঠন করতে হবে। যেখানে বিচারকের আসনে থাকবেন প্রবীণ সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞানী ও আইনজ্ঞরা- কোনো দলীয় আমলা বা সক্রিয় রাজনীতিবিদ নয়। ২. শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা: মূলধারার সাংবাদিকতার নিবন্ধন পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং স্বীকৃত কোনো গণমাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শুধু ‘মোবাইল, ক্যামেরা আর ইন্টারনেট’ থাকলেই কাউকে সাংবাদিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না। ৩. অপরাধের বিচার ও আচরণবিধি: কোনো নিবন্ধিত সংবাদকর্মী নৈতিক স্খলন বা অপরাধ করলে তার বিচার প্রেস কাউন্সিল বা প্রচলিত আইনেই হবে, কিন্তু তার জন্য ঢালাওভাবে পুরো সাংবাদিক সমাজকে লাইসেন্সিং-এর শিকলে বাঁধা যাবে না। একই সাথে মোজো বা নাগরিক সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্মকেও একটি সুনির্দিষ্ট সাইবার আচরণবিধির আওতায় আনতে হবে- যেন তারা তথ্যের নামে গুজব ছড়াতে না পারে।

 

সাংবাদিকরা চিরকাল ক্ষমতার অন্ধ দম্ভ ও অশিক্ষার বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। আমাদেরও ভাবতে হবে- সাংবাদিকতা কোনো তৈলাক্ত বাঁশ নয় যে, যোগ্যতা ছাড়া যে কেউ এসে তা বেয়ে ওপরে উঠে যাবে। সাংবাদিকতা হলো তপ্ত অঙ্গার- যা বুকে ধারণ করতে প্রজ্ঞা, সততা, নিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়। সাংবাদিকদের ডেটাবেজ বা নিবন্ধন অবশ্যই সময়ের দাবি, তবে তা যেন কোনোভাবেই মুক্ত গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার ‘কালো আইন’ বা স্বৈরাচারী ‘লাইসেন্স রাজ’-এ পরিণত না হয়। রাষ্ট্র, সমাজ এবং মূলধারার সাংবাদিক নেতৃত্বকে এখনই বসে এই আত্মঘাতী ‘মোজো’ সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। একই সাথে মোজোদের একটি সুনির্দিষ্ট ও ভিন্ন আইডেন্টিটির ফ্রেমে বেঁধে, মূলধারার সাংবাদিকতার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও দায়বদ্ধ গণমাধ্যমের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায়, ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের আগামি প্রজন্মের কাছে আসামির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে- যার কোনো ক্ষমা নেই।

 

লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

ই-মেইলঃ bulbulmullick@gmail.com

 

Share this news as a Photo Card