গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, যিনি পূর্বে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) ছিলেন, এখন গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এর অপারেশন ও ইন্টেলিজেন্স (অপস অ্যান্ড ইন্টে) শাখায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় শিল্প মালিক ও সাধারণ মানুষদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, আরও দুটি মামলার তদন্ত চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ফলে এমন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকায় তার নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে শিল্প এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এমন একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পাওয়া নিয়েও পুলিশের অভ্যন্তরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, তিনি অপারেশন ও গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বে থেকে প্রভাব খাটাতে পারেন।
হবিগঞ্জে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরে এনে নির্যাতন করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন জেলে পাঠান।
২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট বিএনপি নেতা আলহাজ জি কে গউছের বাসায় শান্তিপূর্ণ বৈঠক চলাকালে খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ গুলিবর্ষণ ও লাঠিচার্জ করে। এতে অনেক নেতা-কর্মী আহত হন, একজনের চোখ নষ্ট হয়। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর থানায় এস এম আওয়াল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
একই বছরের ২ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া যুবক শহীদ মোস্তাক আহমেদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ওই ঘটনায়ও খলিলুর রহমানসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনালে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেন খলিলুর রহমান এবং কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন।
সব মিলিয়ে, গুরুতর মামলার আসামি খলিলুর রহমানের হাতে শিল্প পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যাওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্টাফ রিপোর্টার 






















