গাজীপুরের টঙ্গী থেকে নিখোঁজ হওয়া মুফতি মহিবুল্লাহ মিয়াজীর “অপহরণ ও উদ্ধার” রহস্য অবশেষে উন্মোচিত হয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এটি কোনো অপহরণ নয়—বরং নিজেই আত্মগোপনে যান এই খতিব।
ঘটনার সূত্রপাত ২১ অক্টোবর বিকেলে। টঙ্গী পূর্ব থানার টি অ্যান্ড টি বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি মহিবুল্লাহ নামাজ শেষে হঠাৎ নিখোঁজ হন। পরদিন তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে অভিযোগ করে, তিনি অপহৃত হয়েছেন।
তবে পুলিশের তদন্তে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার সময় মুফতি নিজেই একটি সিএনজিতে করে স্থান ত্যাগ করেন। সিসিটিভি ফুটেজেও কোনো জোরপূর্বক তোলার দৃশ্য নেই।
২৩ অক্টোবর পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া থানার হেলিপ্যাড বাজার এলাকায় স্থানীয়রা তাকে একটি গাছের সঙ্গে শিকলবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
পরে নিজের তৈরি করা একটি ভিডিও বার্তায় মুফতি মহিবুল্লাহ বলেন,
“আমি হাঁটতে গেছি, তারপর হঠাৎ ভাবলাম আমি যাই। অটোতে উঠলাম, তারপর সিএনজি, বাস—এভাবে পঞ্চগড় পৌঁছালাম। তারপর ঠান্ডায় কাতর হয়ে নিজের পায়ে শিকল পরালাম। কেন করছি, কিছুই বুঝিনি।”
তিনি আরও জানান, “হঠাৎ ঠান্ডায় ঘুম এসে যায়, সকালে দেখি হাসপাতালে।”
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ তাহিরুল হক চৌহান বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি কোনো অপহরণ নয়। তিনি নিজেই স্থান ত্যাগ করেছিলেন। তবে কেন বা কী উদ্দেশ্যে তা তদন্তাধীন।”
বর্তমানে মুফতি মহিবুল্লাহ পুলিশের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
স্টাফ রিপোর্টার 

























