০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ: প্রধানমন্ত্রী

 

আজ ১৬ জুলাই ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস। সারাদেশে গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দেশের সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া বীর শহিদদের। তৎকালীন পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জন শহিদ হয়েছিলেন।

 

রংপুরে পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে শহিদ আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার দৃশ্যটি গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। কোটা সংস্কারের দাবি সেই ঘটনার পর ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের আন্দোলনে মোড় নেয়। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। দিনটিকে জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিখেছেন, ‘১৬ জুলাই রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও প্রাণঘাতী শক্তির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার অদম্য সাহসের এক অনন্য নজির। সেই প্রতিরোধ জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে শহিদ আবু সাঈদের বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না, বরং সেটি ছিল অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।’

 

পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান ছিল দেড় দশক ধরে চলে আসা ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, গুম ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। সেই আত্মত্যাগের শক্তিতেই আজ বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। ঐতিহাসিক সেই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর বর্তমান সরকার শহিদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

 

তারেক রহমান তার পোস্টে আরও লিখেছেন, শহিদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের বড় প্রেরণা। সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই আমরা শহিদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি।’

 

তিনি মহান আল্লাহর দরবারে সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জুলাই মৃত্যুর সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার গল্প: এমরান সালেহ প্রিন্স

জুলাই শহীদদের গৌরবগাঁথায় শ্রদ্ধায় মুখর ফুলপুর

16 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ: প্রধানমন্ত্রী

পোষ্টের সময় : ১০:৪৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

 

আজ ১৬ জুলাই ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস। সারাদেশে গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দেশের সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া বীর শহিদদের। তৎকালীন পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জন শহিদ হয়েছিলেন।

 

রংপুরে পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে শহিদ আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার দৃশ্যটি গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। কোটা সংস্কারের দাবি সেই ঘটনার পর ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের আন্দোলনে মোড় নেয়। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। দিনটিকে জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিখেছেন, ‘১৬ জুলাই রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও প্রাণঘাতী শক্তির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার অদম্য সাহসের এক অনন্য নজির। সেই প্রতিরোধ জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে শহিদ আবু সাঈদের বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না, বরং সেটি ছিল অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।’

 

পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান ছিল দেড় দশক ধরে চলে আসা ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, গুম ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। সেই আত্মত্যাগের শক্তিতেই আজ বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। ঐতিহাসিক সেই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর বর্তমান সরকার শহিদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

 

তারেক রহমান তার পোস্টে আরও লিখেছেন, শহিদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের বড় প্রেরণা। সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই আমরা শহিদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি।’

 

তিনি মহান আল্লাহর দরবারে সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

 

Share this news as a Photo Card