১০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদলির দেড় মাসেও অফিস ছাড়ছেন না ময়মনসিংহের এসপি, ব্যাহত হচ্ছে কার্যক্রম

 

দুই দফা বদলির পরও দাপ্তরিক আদেশ অমান্য করে হাইওয়ে পুলিশের ময়মনসিংহ অঞ্চলের পুলিশ সুপারের (এসপি) দায়িত্ব ছাড়ছেন না কাজী মো. ছোয়াইব। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপি মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকেও দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না তিনি। এ ছাড়া বদলির আদেশের পর ১১ মে পর্যন্ত ১৬টি চিঠিতে তিনি ৭৭ কর্মীকে বিভিন্ন স্থানে বদলি করেছেন।

 

হাইওয়ে পুলিশের ময়মনসিংহ অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার রণজয় চন্দ্র মল্লিক বলেন, কাজী মো. ছোয়াইব এখন পর্যন্ত দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। অপারেশনাল কার্যক্রমগুলো রহমত উল্লাহ স্যার করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। সদর দপ্তর থেকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে, তার কোনো নির্দেশনা যেন মানা না হয়।

 

২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ময়মনসিংহ অঞ্চলের এসপি হিসেবে যোগ দেন কাজী মো. ছোয়াইব। একই বছরের ৫ এপ্রিল তাকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর ৯ এপ্রিল আরেক আদেশে দায়িত্ব বুঝিয়ে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে ছাড়পত্র নেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তর। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে তিনি ময়মনসিংহেই থেকে যান।

 

পরে ১৯ এপ্রিল আরেক আদেশে তাকে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, কাজী মো. ছোয়াইব অদ্যাবধি হাইওয়ে পুলিশের ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থান করছেন, যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল। বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি এ আচরণের কারণে তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয় এবং পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে ২০ এপ্রিল সকাল ১০টার মধ্যে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়। এই আদেশ দেন হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা।

 

অন্যদিকে পৃথক আদেশে হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর অঞ্চলের এসপি মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকে ময়মনসিংহ অঞ্চলের এসপি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০ এপ্রিল হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির কাছে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ে বসতে পারেননি।

 

রহমত উল্লাহ বলেন, ভদ্রতার কারণে সেখানে যেতে পারছি না। তিনি আমার জুনিয়র। অনভিপ্রেত পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সে কারণে সেখানে না গেলেও দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি না থাকলে হয়তো সপ্তাহে এক-দুই দিন সেখানে যেতাম।

 

বেতন আটকে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসার ও ফোর্সের বেতন-ভাতা আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে আমার স্বাক্ষরে বেতন হয়েছে। তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার পরও কেন কার্যালয় ছাড়ছেন না, সেটা তিনিই বলতে পারবেন। যথাসময়ে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

 

কাজী মো. ছোয়াইব বলেন, আমাকে যেখানে বদলি করা হয়েছে, সেখানে আগে চার বছর ছিলাম। পুনর্বিবেচনার জন্য স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপির কাছে আবেদন জানিয়েছি। সেখান থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় এখানে আছি। মৌখিকভাবে এখানেই থাকতে বলা হয়েছে।

 

বেতন দেরির বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মীদের বেতন অ্যাকাউন্টস অফিসে যথাসময়ে পাঠিয়েছি। কী কারণে দেরি হয়েছে জানি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে অফিস পরিচালনায় তেমন সমস্যা হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত আসার পর যা সমস্যা হচ্ছে তা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

 

উল্লেখ্য, কাজী মো. ছোয়াইবকে ৫ এপ্রিল বরিশালে বদলি করা হলেও তিনি দায়িত্ব ছাড়েননি। ২০ এপ্রিল তাকে দাপ্তরিকভাবে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ৯ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত ৩২ দিনে ১৬টি চিঠির মাধ্যমে মোট ৭৭ জন কর্মীকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে ৯ থেকে ১৮ এপ্রিল ৩৯ জন এবং ২৬ এপ্রিল থেকে ১১ মে ৩৮ জনকে বদলি করা হয়।

 

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীনে ভরাডোবা, শ্যামগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, কটিয়াদী ও নান্দাইল থানায় মোট ১৭৭ জন সদস্য রয়েছেন। একজন এসপি ও একজন এএসপি প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

 

নথিপত্রে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে একাধিক বদলি আদেশ দেওয়া হলেও পরে কিছু বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদলি হওয়া এক কনস্টেবল বলেন, এ ধরনের বদলিতে পরিবার নিয়ে আমাদের মতো সাধারণ সদস্যরা ভোগান্তির শিকার হন।

 

তবে বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী মো. ছোয়াইব বলেন, কর্মীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বদলিগুলো করা হয়েছে। অনেকে নতুন যোগ দিয়েছেন, আবার অনেকে প্রয়োজন বিবেচনায় বদলির আবেদন করেছিলেন।

 

অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, কাজী মো. ছোয়াইবকে বদলি ও সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। তিনি এখন অনুপস্থিত এবং কার্যত কার্যালয় দখল করে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বদলির আদেশের পর তিনি যেসব বদলি করেছেন, সেগুলো কার্যকর হবে না।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

নারীরা এখন রাস্তায় বের হতে শঙ্কাবোধ করেন: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

চিকিৎসক ও নার্সের ওপর হামলার প্রতিবাদে বকশীগঞ্জে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

21 May 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বদলির দেড় মাসেও অফিস ছাড়ছেন না ময়মনসিংহের এসপি, ব্যাহত হচ্ছে কার্যক্রম

পোষ্টের সময় : ০৮:২০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

 

দুই দফা বদলির পরও দাপ্তরিক আদেশ অমান্য করে হাইওয়ে পুলিশের ময়মনসিংহ অঞ্চলের পুলিশ সুপারের (এসপি) দায়িত্ব ছাড়ছেন না কাজী মো. ছোয়াইব। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপি মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকেও দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না তিনি। এ ছাড়া বদলির আদেশের পর ১১ মে পর্যন্ত ১৬টি চিঠিতে তিনি ৭৭ কর্মীকে বিভিন্ন স্থানে বদলি করেছেন।

 

হাইওয়ে পুলিশের ময়মনসিংহ অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার রণজয় চন্দ্র মল্লিক বলেন, কাজী মো. ছোয়াইব এখন পর্যন্ত দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। অপারেশনাল কার্যক্রমগুলো রহমত উল্লাহ স্যার করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। সদর দপ্তর থেকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে, তার কোনো নির্দেশনা যেন মানা না হয়।

 

২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ময়মনসিংহ অঞ্চলের এসপি হিসেবে যোগ দেন কাজী মো. ছোয়াইব। একই বছরের ৫ এপ্রিল তাকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর ৯ এপ্রিল আরেক আদেশে দায়িত্ব বুঝিয়ে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে ছাড়পত্র নেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তর। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে তিনি ময়মনসিংহেই থেকে যান।

 

পরে ১৯ এপ্রিল আরেক আদেশে তাকে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, কাজী মো. ছোয়াইব অদ্যাবধি হাইওয়ে পুলিশের ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থান করছেন, যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল। বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি এ আচরণের কারণে তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয় এবং পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে ২০ এপ্রিল সকাল ১০টার মধ্যে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়। এই আদেশ দেন হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা।

 

অন্যদিকে পৃথক আদেশে হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর অঞ্চলের এসপি মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকে ময়মনসিংহ অঞ্চলের এসপি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০ এপ্রিল হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির কাছে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ে বসতে পারেননি।

 

রহমত উল্লাহ বলেন, ভদ্রতার কারণে সেখানে যেতে পারছি না। তিনি আমার জুনিয়র। অনভিপ্রেত পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সে কারণে সেখানে না গেলেও দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি না থাকলে হয়তো সপ্তাহে এক-দুই দিন সেখানে যেতাম।

 

বেতন আটকে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসার ও ফোর্সের বেতন-ভাতা আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে আমার স্বাক্ষরে বেতন হয়েছে। তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার পরও কেন কার্যালয় ছাড়ছেন না, সেটা তিনিই বলতে পারবেন। যথাসময়ে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

 

কাজী মো. ছোয়াইব বলেন, আমাকে যেখানে বদলি করা হয়েছে, সেখানে আগে চার বছর ছিলাম। পুনর্বিবেচনার জন্য স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপির কাছে আবেদন জানিয়েছি। সেখান থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় এখানে আছি। মৌখিকভাবে এখানেই থাকতে বলা হয়েছে।

 

বেতন দেরির বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মীদের বেতন অ্যাকাউন্টস অফিসে যথাসময়ে পাঠিয়েছি। কী কারণে দেরি হয়েছে জানি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে অফিস পরিচালনায় তেমন সমস্যা হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত আসার পর যা সমস্যা হচ্ছে তা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

 

উল্লেখ্য, কাজী মো. ছোয়াইবকে ৫ এপ্রিল বরিশালে বদলি করা হলেও তিনি দায়িত্ব ছাড়েননি। ২০ এপ্রিল তাকে দাপ্তরিকভাবে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ৯ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত ৩২ দিনে ১৬টি চিঠির মাধ্যমে মোট ৭৭ জন কর্মীকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে ৯ থেকে ১৮ এপ্রিল ৩৯ জন এবং ২৬ এপ্রিল থেকে ১১ মে ৩৮ জনকে বদলি করা হয়।

 

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীনে ভরাডোবা, শ্যামগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, কটিয়াদী ও নান্দাইল থানায় মোট ১৭৭ জন সদস্য রয়েছেন। একজন এসপি ও একজন এএসপি প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

 

নথিপত্রে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে একাধিক বদলি আদেশ দেওয়া হলেও পরে কিছু বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদলি হওয়া এক কনস্টেবল বলেন, এ ধরনের বদলিতে পরিবার নিয়ে আমাদের মতো সাধারণ সদস্যরা ভোগান্তির শিকার হন।

 

তবে বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী মো. ছোয়াইব বলেন, কর্মীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বদলিগুলো করা হয়েছে। অনেকে নতুন যোগ দিয়েছেন, আবার অনেকে প্রয়োজন বিবেচনায় বদলির আবেদন করেছিলেন।

 

অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, কাজী মো. ছোয়াইবকে বদলি ও সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। তিনি এখন অনুপস্থিত এবং কার্যত কার্যালয় দখল করে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বদলির আদেশের পর তিনি যেসব বদলি করেছেন, সেগুলো কার্যকর হবে না।

 

Share this news as a Photo Card