০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কম্বোডিয়ায় থাই বিমান হামলা

 

সীমান্ত উত্তেজনার জেরে প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী। সোমবার ভোরে এই আক্রমণ চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে উভয় দেশের সেনাবাহিনী। ঘটনাটি ঘিরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল উইনথাই সুভারি জানান, কম্বোডিয়ার চং এন মা পাস এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি অস্ত্র সংরক্ষণাগারকে লক্ষ্য করে এই বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, এসব স্থানে আর্টিলারি ও মর্টার রাখা হয়েছিল, যেগুলো সম্প্রতি থাই সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলায় ব্যবহার করা হয়। আগের দিন রোববার কম্বোডীয় বাহিনীর গোলাবর্ষণে থাইল্যান্ডের একজন সেনা নিহত এবং আরও দু’জন আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে থাই কর্তৃপক্ষ।

 

অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার ভোর ৫টা ৪ মিনিটে তাদের সেনা স্থাপনাগুলোর ওপর থাইল্যান্ডের যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়। কম্বোডিয়ার বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই থাই বাহিনী উসকানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে আসছে এবং এ বিমান হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

 

এই বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি কম্বোডিয়া। তবে সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘাত শুরুর আগেই থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশ—বুরি রাম, সুরিন, সি সা কেত ও উবন রাতচাথানি থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়ার সীমান্ত এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ বাসিন্দাকেও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে রোববার থাইল্যান্ড জাতিসংঘে অভিযোগ জানায় যে, কম্বোডিয়া গোপনে সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছে, যার বিস্ফোরণে থাই ও চীনা নাগরিক আহত হয়েছেন। এই অভিযোগের কিছু সময় পরই সীমান্তে গোলাগুলি শুরু হয়।

 

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৫ বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত জুলাই মাসেও দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৩২ জন নিহত হন এবং বাস্তুচ্যুত হন প্রায় ২ লাখ মানুষ। ওই সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও সর্বশেষ এই হামলায় সেই শান্তিচুক্তি আবারও হুমকির মুখে পড়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

কাজী নজরুলের সমাধি ফলকে লিখিত কাব্যাংশের অনুপ্রেরণা যে চিঠিতে

দল বা প্রশাসনের কেউ অপরাধে জড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: প্রিন্স

01 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

কম্বোডিয়ায় থাই বিমান হামলা

পোষ্টের সময় : ১০:৪২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 

সীমান্ত উত্তেজনার জেরে প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী। সোমবার ভোরে এই আক্রমণ চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে উভয় দেশের সেনাবাহিনী। ঘটনাটি ঘিরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল উইনথাই সুভারি জানান, কম্বোডিয়ার চং এন মা পাস এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি অস্ত্র সংরক্ষণাগারকে লক্ষ্য করে এই বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, এসব স্থানে আর্টিলারি ও মর্টার রাখা হয়েছিল, যেগুলো সম্প্রতি থাই সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলায় ব্যবহার করা হয়। আগের দিন রোববার কম্বোডীয় বাহিনীর গোলাবর্ষণে থাইল্যান্ডের একজন সেনা নিহত এবং আরও দু’জন আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে থাই কর্তৃপক্ষ।

 

অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার ভোর ৫টা ৪ মিনিটে তাদের সেনা স্থাপনাগুলোর ওপর থাইল্যান্ডের যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়। কম্বোডিয়ার বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই থাই বাহিনী উসকানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে আসছে এবং এ বিমান হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

 

এই বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি কম্বোডিয়া। তবে সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘাত শুরুর আগেই থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশ—বুরি রাম, সুরিন, সি সা কেত ও উবন রাতচাথানি থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়ার সীমান্ত এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ বাসিন্দাকেও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে রোববার থাইল্যান্ড জাতিসংঘে অভিযোগ জানায় যে, কম্বোডিয়া গোপনে সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছে, যার বিস্ফোরণে থাই ও চীনা নাগরিক আহত হয়েছেন। এই অভিযোগের কিছু সময় পরই সীমান্তে গোলাগুলি শুরু হয়।

 

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৫ বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত জুলাই মাসেও দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৩২ জন নিহত হন এবং বাস্তুচ্যুত হন প্রায় ২ লাখ মানুষ। ওই সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও সর্বশেষ এই হামলায় সেই শান্তিচুক্তি আবারও হুমকির মুখে পড়েছে।

 

Share this news as a Photo Card