বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, গণ অভ্যুত্থান ও নির্বাচন পরবর্তী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন অভিযাত্রার বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ফ্যাসিস্টরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে । ফ্যাসিস্ট হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে আসার হুংকার সেই ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ । তিনি বলেন , ডিসেম্বরে নয়, আমরা চাই ফ্যাসিস্ট হাসিনা আজই দেশে ফিরে এসে আইনের কাছে আত্ম সমর্পন করুন, কারণ তিনি আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত পালাতক আসামী। কিন্তু গণ অভ্যুত্থানে গণ হত্যার হুকুমদাতা ও জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হাসিনাদের সেই সৎ সাহস নাই। তিনি আসবেন না, তিনি ভারতে আস্রিতা থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে তার পালাতক কর্মীদের উস্কানী দিতে মাঝে মধ্যে হুংকার দেন। তিনি জনগণ এবং বিএনপিসহ গণ অভ্যুত্থানের সকল শক্তির প্রতি ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র বিষয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানান।
এমরান সালেহ প্রিন্স আজ শুক্রবার বিকেলে
হালুয়াঘাট উপজেলার যুগলী ইউনিয়নের ঘোষবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন কৃষকদলের উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
হালুয়াঘাট উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মরহুম শেখ সাদিরের মৃত্যুতে যুগলী ইউনিয়ন কৃষকদল এই শোক সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে । উল্লেখ্য গত ২৩ মে শেখ সাদির ইন্তেকাল করেন ।
শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, কৃষক নেতা মরহুম শেখ সাদির ছিলেন দলের একজন ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ ও পরীক্ষিত সংগঠক। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন সাহসী সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি। দলের কর্মকান্ডে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে শেখ সাদির অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন। কৃষকের বন্ধু ছিলেন শেখ সাদির। তার স্বপ্ন ছিলো কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন কৃষি ও কৃষকের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তখন শেখ সাদির আমাদের মাঝে নেই।
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলায় কৃষক কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ চলতি মাস থেকেই যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হবে এবং আগামী আগস্ট মাস থেকে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড প্রদানের পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। অসহায় ও প্রান্তিক কৃষকদের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগ একটি মানবিক ও অনন্য দৃষ্টান্ত। কৃষকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
বক্তব্যের শেষে তিনি মরহুম শেখ সাদিরের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের শেখ সাদিরের আদর্শ অনুসরণ করে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।
সভা শেষে মরহুম শেখ সাদিরের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি রজব আলী মেম্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর,, যুগলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ক্বারী আবুল কাশেম,ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ মিয়া, সহ সভাপতি আল আমিন চমক, মোস্তাফিজুর রহমান,জেলা জাসাস সভাপতি শফিকুল ইসলাম,উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, উপজেলা তাঁতী দলের আহবায়ক আকিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব আলী আজগর , জুগলী ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিক হোসনে আরা নীলু, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ার বেগম ময়না , বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গনি , পৌর ছাত্র দলের সদস্য সচিব তাজবীর হোসেন অন্তর,উপজেলা ছাত্র দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম আর আল আমিন, বিএনপি, কৃষকদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মরহুমের স্ত্রী,সন্তানসহ পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এমরান সালেহ প্রিন্সসহ নেতাকর্মীরা ঘোষবেড় সামাজিক কবরস্থানে মরহুম শেখ সাদিরের কবর জিয়ারত করেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও মুনাজাত করেন। এসময় মরহুমের ছেলেসহ পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

হালুয়াঘাট প্রতিনিধি 



















