রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে কর্মরত এক নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগে আহসান হাবিব নামের এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত চিকিৎসককে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আহসান হাবিবের বাড়ি নওগাঁ জেলায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীতে বসবাস করছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নার্সের সঙ্গে হাবিবের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি নার্সটিকে ঢাকার চাকরি ছেড়ে রাজশাহী নিয়ে আসেন।
এরপর হাবিব বিয়ের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে নিজ বাসায় নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকার আল-আরাফাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেকে নিয়ে আবারও ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এরপর তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে নার্সটি জানতে পারেন, হাবিব ইতিমধ্যেই বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন।
এ ঘটনায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানায় ভুক্তভোগী নারী মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল আলিম জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি হন এবং সেখানেই চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষা শেষে মামলা করেন।
পুলিশ রোববার দুপুরে ক্লিনিক থেকে চিকিৎসক আহসান হাবিবকে গ্রেপ্তার করে এবং বিকেলেই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে আল-আরাফাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়টি জানার পরপরই ডা. আহসান হাবিবকে আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনার পর রাজশাহীতে চিকিৎসক সমাজে নড়চড় পড়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















