২০২২ সালে মালিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি। এর পরিবর্তে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পথ তৈরি করে নিয়েছেন দেশটির সামরিক প্রধান আসসিমি গোইতা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গোইতা এর আগে দুটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতা দখল করেন। সর্বশেষ ২০২১ সালে তিনি ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০২২ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সেই নির্বাচন আর হয়নি, এবং গোইতা তখন থেকেই অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অস্থায়ী সরকার জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকটি প্রধান রাজনৈতিক দল গোইতাকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে বহাল রাখার সুপারিশ করেছে। যদিও সম্মেলনটি বয়কট করে মালির প্রধান বিরোধীদল।
এদিকে মালির বিরোধীদলীয় নেতা মোহামেদ সালিয়া তৌরে এই পদক্ষেপকে ‘বহুদলীয় রাজনীতিকে দমন করার চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, এটি হবে একটি ঐতিহাসিক ভুল। একই সঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির সাহেল অঞ্চলের গবেষক উসমান দিয়ালো বলেন, সম্মেলনের প্রস্তাবে মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গোইতার নেতৃত্বাধীন সেনা সরকার বর্তমানে ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদার সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা দমনে ব্যস্ত সময় পার করছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী বুরকিনা ফাসো ও নাইজারের সেনা সরকারগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এ তিনটি দেশ বর্তমানে ফ্রান্সের সঙ্গে দূরত্ব রেখে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে।

























