ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামজুড়ে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ছয় ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যে, অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার দুপুরে, যখন মায়ের মৃত্যুর পর লাশ দেখতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর পর থেকেই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রবিবার সকালেও অনেক পরিবারকে ঘরের মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নিতে দেখা গেছে, যেনো পুনরায় সহিংসতা শুরু হলে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।
স্থানীয়রা জানান, ওই ছয় ভাইয়ের মধ্যে চারজন আছেন সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদের সমর্থক, যিনি বিরামপুর গ্রামের প্রভাবশালী খাঁ গোষ্ঠীর মানুষ। অপর দুই ভাই যুক্ত আছেন প্রতিপক্ষ সাচ্চু গ্রুপের সঙ্গে। মায়ের দাফন ঘিরে এই দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সাদেকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয়ভাবে পাঁচ হাজার মানুষের সমাবেশ হয়েছিল। কিন্তু হারুন অর রশীদের অনমনীয় আচরণের কারণে আলোচনাটি ব্যর্থ হয়।
এদিকে, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম কবির উর রাজা জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি পীযুষ কান্তি আচার্য মন্তব্য করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দুর্বলতা দেখা দিয়েছে, যার সুযোগে এই ধরনের প্রভাবশালী গ্রুপগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, জেলার কোন কোন অঞ্চল দাঙ্গাপ্রবণ তা নির্ধারণ করে নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা রোধ করা যায়।
স্টাফ রিপোর্টার 






















