ভারতের মহারাষ্ট্র অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোক ও স্তব্ধতা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে পুনে জেলার বারামতীতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)-এর শীর্ষ নেতা অজিত পাওয়ার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা আরও চারজন যাত্রী ও ক্রু সদস্যসহ মোট পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ডিজিসিএ (DGCA) আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহত অজিত পাওয়ারের বয়স ছিল ৬৬ বছর। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার একটি দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত বিমানে করে সফর করছিলেন। দিল্লিভিত্তিক চার্টার কোম্পানি ‘ভিএসআর’-এর মালিকানাধীন ‘লিয়ারজেট ৪৫’ মডেলের ওই বিমানটি বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের প্রস্তুতিকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে বিমানটি রানওয়ের কাছাকাছি এলাকায় ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে বিমানটিতে থাকা কেউই জীবিত উদ্ধার হননি।
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রকাশিত ছবিতে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ ও উদ্ধার তৎপরতার দৃশ্য দেখা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অজিত পাওয়ারের এই আকস্মিক প্রয়াণে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্ঘটনা মহারাষ্ট্রের রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





















