মাদাগাস্কারে রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা হঠাৎ দেশ ছেড়ে পালানোর পর এই ঘটনা ঘটেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনার এলিট ইউনিট এই কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগে রাজধানী এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পানি সংকট ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরে তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি জানান। শনিবার সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট অপ্রত্যাশিতভাবে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেয়।
সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপের দুইদিন পর, প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি ফ্রান্সের একটি সামরিক বিমানে দেশ ত্যাগ করেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, জীবন রক্ষার জন্য তিনি নিরাপদ স্থানে আছেন। এরপর মাদাগাস্কারের সংসদ অভিশংসনের প্রস্তুতি নেয়। প্রেসিডেন্ট সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করলে সংসদ সদস্যরা তা ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন। সেনাবাহিনী অবিলম্বে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেয়।
সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশকে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনা হবে। উল্লেখযোগ্য হলো, সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিটই ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রিকে প্রথমবার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বানাতে সহায়তা করেছিল। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মার্ক রাভালোমানানাকে সরিয়ে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল আন্দ্রিকে।
সেনার এই পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মাদাগাস্কারের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ফেলেছে।
দ্রুতসংবাদ, আন্তর্জাতিক মনিটরিং সংস্থা ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























