ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে র্যাব-১৪ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এক নারীসহ ১৪ জন দালালকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। সাজাপ্রাপ্তদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ কোম্পানির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসান।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. আতিকুল ইসলাম (৪০), মোহাম্মদ রফিক আলী (৪৫), ইমরান বাদশা (৩০), আসাদ (৪৭), আহসান উল্লাহ (৩৭), মনির (৪৫), টুটুল আমিন (৪০), আনিস হোসেন (৪০), মো. রানা (৩০), মো. সোহাগ মিয়া (৩১), মনির হোসেন (৩৭), শিলা আক্তার (৫১), জীবন হোসেন (২৮) ও আক্তার হোসেন (৩১)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ ও প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে রোগী ও স্বজনদের টার্গেট করছিল। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেত। সেখানে উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো।
র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান বলেন, “শুধু অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। একই দালালদের বারবার গ্রেফতার করা হলেও জামিনে বেরিয়ে তারা পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাদের প্রতারণার শিকার হয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ায় রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।”
র্যাব জানিয়েছে, হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশে দালালচক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের জনস্বার্থে অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দালালচক্রের তৎপরতা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার 























